ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী ক্যাথলিক ও প্রোটেষ্টাইন চার্চ ভিত্তিক মিশনারীদের এনজিওর মর্যাদা বাতিলের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করে বলেছেন যে, এসব মিশনারী এনজিও মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের ধর্মান্তরিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি এক বিবৃতিতে চার্চ ভিত্তিক এনজিওর বিরুদ্ধে দরিদ্র ও অনাহারক্লিষ্ট রোহিঙ্গাদের ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ করে বলেন, ক্যাথলিক ও প্রোটেষ্টাইন চার্চ ভিত্তিক মিশনারীরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, ঘরবাড়ী তৈরি ও বিদেশ ভ্রমনসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের ধর্মান্তরিত করার সুষ্পষ্ট চিত্র পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, ঢালাওভাবে এনজিওর মর্যাদালাভের সুবাদে মুসলিম বিদ্বেষী সম্প্রসারণবাদী, আধিপত্যবাদীও সা¤্রাজ্যবাদী শক্তির এজেন্ট খ্রিষ্টান মিশন ভিত্তিক এনজিও রোহিঙ্গাদের ধম্র্ন্তারিত করার কাজে লিপ্ত। প্রলোভন দেখিয়ে লোকদের ধর্মান্তরিত করার সুষ্পষ্ট চিত্র একবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও ফুটে ওঠে।
তিনি আরো বলেন, মিশন ভিত্তিক এনজিও বিদেশী রাষ্ট্রের চর হিসেবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে কাজ করছে। তাদের শক্তি ও ঔদ্ধত্য অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রশাসন ও রাজনীতির ওপর নিজেদের প্রভাব ক্রমশঃ বিস্তারের অপচেষ্টায় লিপ্ত। এসব এনজিওগুলো খুব ঔদ্ধত্যের সাথে ইসলামী কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও আদর্শ ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর উৎস বিধায় এভিত্তিকে ভেঙ্গে চুরমার করার জন্যে এনজিওরা মাঠ পর্যায়ে সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্ব দূরিকরনের নামে সংগৃহিত খয়রাতি টাকার দ্বারা রোহিঙ্গাদের সেবার কথা বলে এসব এনজিও নিজেদেরকে মহাজন হিসেবে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করছে। অরাজনৈতিক, নিরপেক্ষ এবং জনগণের দারিদ্র্য বিমোচন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ণ, ত্রাণ বিতরণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচী, গণশিক্ষার নামে এসব এনজিও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশে স্বচেষ্ট। এসব এনজিও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বিদেশী দাতাদের অর্থে গঠিত এনজিওগুলো আমাদের রাজনীতির চালিকা শক্তি হিসবে আত্মপ্রকাশ করছে। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে কাজ করছে। তাই রাজনীতিতে এনজিওদের সক্রিয়তা এখন শঙ্কা ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন এনজিওদের ইসলাম বিরোধী ভ’মিকার উল্লেখ করে আরো বলেন, ইসলামী কর্মকান্ড এবং ভাবধারাকে প্রতিরোধ এবং প্রতিহত করার জন্যে এসব এনজিও সর্বোতভাবে অপচেষ্ট চালাচ্ছে। এনজিওরা রোহিঙ্গ শরনার্থীদেও ধর্মবিমূখ ও ধর্মহীন করছে। রোহিঙ্গাদেও ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ নষ্ট করার লক্ষ্যে এসব এনজিও কাজ করছে।
মাওলানা নেজামী বলেন, এনজিও সমূহের নিয়ন্ত্রণ এবং তাদেও কর্মকান্ড পর্যবেক্ষনের দায়িত্বে নিয়োজিত এনজিও ব্যুরো অনিয়ম, দূর্নীতি ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অভিযোগে একবার এডাব ও প্রশিকার নিবন্ধন বাতির করেছিল।
তিনি পরিশেষে এসব এনজিওর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গওরুত্বারোপ করে বলেন, জনসেবার ছদ্মাবরণে সংগৃহিত অর্থ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তাই খ্রিষ্টান চার্চগুলোর এনজিওর মর্যাদাবাতিল করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা উচিৎ।