ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখতে ও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে নীলনকশা করেছে ক্ষমতাসীনরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে দেয়া বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। তবে এ বক্তব্যকে রাজনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন দুদকের আইনজীবীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তৃতীয় দিনের মতো আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিতে বৃহস্পতিবার সকালে বকশিবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ দিনের কার্যক্রমের শুরুতেই এ মামলায় স্থায়ী জামিন চান তাঁর আইনজীবীরা।

এ নিয়ে শুনানির পর উচ্চ আদালতে এ মামলা সংক্রান্ত দুটি আবেদন বিচারাধীন থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য মুলতবি রাখার আবেদন করা হয়। এ আবেদনটি খারিজ হয়ে গেলে ৩৪২ ধারায় বক্তব্য দেয়া শুরু করেন বেগম জিয়া। এ সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো খারিজ হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বেগম জিয়ার আইনজীবী জয়নাল আবেদীন বলেন, আমাদের হাতে জাদুর কাঠি থাকলেও বলতাম না মামলা প্রত্যাহার করার। ন্যায় বিচার করতাম। আদালতের কাছে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা করছি। আশা করি সকল প্রভাবে ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায় বিচার করা হবে। ন্যায় বিচারের কথা জোর দিয়ে এত বার বার আমি বলছি; এর কারণে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে কি না সে ব্যাপারে দেশবাসীর কাছে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। আমরাও শঙ্কিত।’

দুদকের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন কাজল বলেন, উচ্চতর আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এই ধরনের বক্তব্য না দেওয়াই উচিত।

ক্ষমতাসীনরা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এর মাধ্যমে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে তাকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে বেগম জিয়ার এ বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন দুদকের আইনজীবীরা।

আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য গ্রহণ মুলতবি করেন আদালত। একই সঙ্গে স্থায়ী জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়ে পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত জামিন বর্ধিত করেন বিচারক।