বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী খালেদা জিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি অসুস্থ। তাঁর বাঁ হাত ভারী হয়ে যাচ্ছে, কিছুটা অবশ বোধ করছেন। এখন তিনি বাঁ হাত নাড়াতেই পারছেন না।

আজ সোমবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আালমগীর এসব দাবি করেন।

সোমবার বিকেলে স্বজনেরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা স্বজনদের কাছ থেকে জেনেছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপের দিকে চলে গেছে। তিনি বাঁ পায়েও জোর পাচ্ছেন না। হাঁটতে পারছেন না। দেশনেত্রীর শরীর খারাপ। তাই বাধ্য হয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করতে হয়েছে। একজন জাতীয় নেতার সঙ্গে এমন আচরণ কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না।

মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, বারবার বলার পরও খালেদা জিয়ার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করছে না সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অফিসে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ চিঠি পাঠালেও এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। সরকার সম্পূর্ণভাবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে অবহেলা করছে, অবজ্ঞা করছে।

প্রত্যেকটা বন্দীকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্যটা কী? কেন তাঁর চিকিৎসা করা হচ্ছে না। তিনি তো সরকারের কাস্টডিতে আছেন। তাঁর চিকিৎসা না করায় এ নিয়ে আমরা যথেষ্ট সন্দিহান। আশঙ্কা করছি ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাঁকে আরও অসুস্থ করতে চায় সরকার। তাঁকে রাজনীতি থেকে দুরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটা হীন উদ্দেশ্যে তারা এ কাজগুলো করছে।’

অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, অন্যথায় এর সব দায় দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাক্ষাৎ পাওয়া স্বজনদের বরাত দিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন দাবি করেন, ‘ম্যাডাম গত সাত দিন যাবৎ জ্বরে আক্রান্ত। তাঁর শরীর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে। গত সাত দিনে জ্বর কোনো অবস্থাতেই নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ও আবদুল কুদ্দুছ খালেদা জিয়ার অসুস্থতার নানা দিক তুলে ধরেন। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।