ত্রাণ বিতরণ শেষে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ফেনীর মহিপাল অতিক্রম করার সময় দুটি বাসে পেট্রলবোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফেনীর মহিপাল ৬ লেন ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখে এই ঘটনা ঘটে।

তবে ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

খালেদা জিয়াকে বহন করা গাড়িটি ঘটনাস্থল পার হয়ে ১৪-১৫ ফুট সামনে যাওয়ার পর পর দুটি বোমা মেরে এই হামলা চালানো হয়। যে দুটি বাসে পেট্রলবোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলো রাস্তায় উপরে থামানো ছিল।

হামলার পর নেতাকর্মীরা দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। তবে খালেদা জিয়ার গাড়িটি নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গাড়ি বহরে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ছিল।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ফেনী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার ফোন করা হলে তারা রিসিভ করেননি।

সদর উপজেলার বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, খালেদা জিয়ার গাড়ি মহিপাল ফিলিং স্টেশন পার হওয়ার পর পরই দুটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে দুটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

ঘটনাটি সরকারি দল ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী জানান, এটি বিএনপির পুরোনো অভ্যাস। তারা একটি পিনিক সৃষ্টি করে দায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে। সকাল থেকে পুরো সড়কের কোথায়ও আওয়ামী লীগের কোন কর্মীই ছিল না। পুলিশকে বলেছি ঘটনা তদন্ত করে খুব জলদি জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে।

ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা দুষ্কৃতকারী। এই মুহূর্তে বলা যাবে না কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে দুটি বাসে আগুন লাগানো হয়েছে।

বাস দুটি রং সাইডে পার্কিং করা ছিল। তবে এতে চালক ও হেলপার কেউ আহত হয়নি। ঘটনার পর থেকে শহরজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পরপর ছাত্রদল, যুবদল রড ও লাঠি হাতে নিয়ে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করে।