বাংলাদেশে বর্তমানে যে কোটা ব্যবস্থা আছে তা অত্যন্ত দূর্বল। কোটা হলো কোন লক্ষ অর্জনের ব্যবস্থা মাত্র। কোটা কখনো চিরন্তন ব্যবস্থা হতে পারে না। প্রতিবন্ধীদের জন্য যে ১শতাংশ কোটা আছে তাও বাধ্যতামূলক নয়। দেশে ১০% লোক প্রতিবন্ধী। এই বিবেচনায় তাদের জন্য সরকারি চাকুরীর কোটা ১% থেকে বাড়িয়ে ৬% করা উচিত। তবে প্রতিবন্ধীদের আরো শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে যাতে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে। আজ এফডিসিতে অনুষ্ঠিত ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘যুক্তি আলোয় দেখি’ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। টেকসই উন্নয়নে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ শীর্ষক এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চট্রগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় বিজয়ী হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আকবর আলী খান বলেন, প্রতিবন্ধীদের কোথায় কোথায় কাজে দেয়া যায় সে বিষয়ে সরকারের তেমন কোন বিশ্লেষণ ও গবেষণা নাই। প্রতিবন্ধীদের মধ্যেও অনেক সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। তারা বিভিন্ন কারণে মূলধারায় আসতে পারছেনা। তবে প্রতিবন্ধীদেরও যদি শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা যায় তাহলে তারাও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়ে উঠবে। ফলে সরকারি চাকুরীর পাশাপাশি বে-সরকারি খাতেও তারা নিয়োগের সুযোগ পাবে। তখন হয়তো আর কোটার কোন প্রয়োজন থাকবে না। অতএব বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার মাধ্যমে তাদের মূলধারায় আনতে হবে এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য যে কোটা আছে তা বাধ্যতামূলক করতে হবে। তিনি বলেন, আগে মহিলারা পুলিশে বা প্রতিরক্ষা বিভাগে সুযোগ পেত না। কিন্তু বর্তমানে তারা এসব জায়গায় দক্ষতার সাথে কাজ করছে। নারীদের জন্য বর্তমানে ১০% কোটা রয়েছে। কিন্তু নারীরা এখন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সে বিবেচনায় কোথায় কোন কোটা দরকার ১০ বছর পর পর তা বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংস্কার করার প্রয়োজন। যেসব দেশে স্থায়ী ভিত্তিতে কোটা ব্যবস্থা আছে, যেমন ভারত, সেখানেও সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, কোটা কোন চিরন্তন ব্যবস্থা নয়। তাই আমাদেরকেও কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থার এক হিসেবে দেখা যায় বাংলাদেশে বর্তমানে এক কোটির বেশি প্রতিবন্ধী রয়েছে। এর মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৩৩ লাখ। টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে পিছিয়ে পড়া এই প্রতিবন্ধীদের জাতীয় উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানে বিশেষ ব্যবস্থা করা জরুরি। সিভিল সার্ভিসে প্রতিবন্ধীদের জন্য ১% কোটা ও নন ক্যাডার সার্ভিসে ৩% কোটার কথা উল্লেখ করা হলেও এগুলো মূলত সাব-কোটা। বিসিএস পরীক্ষায় প্রতিবার গড়ে ২ হাজার প্রার্থী ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ পেয়ে থাকে। কিন্তু দেখা গেছে এ পর্যন্ত শুধু ৫-৬জন দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী প্রার্থী ক্যাডার সার্ভিসে চাকুরির সুযোগ পেয়েছে।
তাহলে প্রতিবন্ধীদের জন্যে যে ১% কোটার কথা বলা হয় সেটা কোথায়? মূলত কোটা পদ্ধতিতে মেধায় ৪৫% এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৫৫% নিয়োগের কথা উল্লেখপূর্বক এই কোটা থেকে প্রার্থী পাওয়া না গেলে প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের মধ্যে থেকে ১% সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সে কারণেই সরকারি কোটা সংস্কার নিয়ে যেহেতু সর্বমহলে আলোচনা হচ্ছে তাই এখনই উপযুক্ত সময় সরকারি চাকুরিতে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা। এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রতিবন্ধী ও নৃগোষ্ঠীর জন্য বিশেষব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। কোটা সংস্কার বিষয়ে যে কমিটি গঠিত হচ্ছে সেই কমিটি যেনো সমস্ত ধরনের সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক ঝুমুর বারি, সাংবাদিক জাহিদ রহমান, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন এবং মু. শাহ আলম চৌধুরী। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
ক্যাপশন-১: ‘প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ নিয়ে’ আয়োজিত ছায়া সংসদের বিজয়ী দলকে ক্রেস্ট প্রদান করছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ক্যাপশন-২: ‘প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ নিয়ে’ আয়োজিত ছায়া সংসদের প্রধান অতিথি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এর সাথে বিতার্কিকদের দেখা যাচ্ছে।