কেবল রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে শান্তির আহ্বান নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আগুন একজন জ্বালিয়ে দিতে পারলেও সে আগুন নেভাতে লাগে দশজন । অল্প কয়েকজন বৌদ্ধভিক্ষুর কর্মকা-প্রতিরোধে সর্বস্তরের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এগিয়ে আসা উচিত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বৌদ্ধ ধর্মগুরুদের সঙ্গে নিজ বাসভবনে মতমিনিময়ের সময় আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
বৌদ্ধ ধর্মগুরুদের নেতৃত্ব দেন ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারের প্রধান ভান্তে ধর্মমিত্র মহাথেরো। এ সময় তাঁরা ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে আলোচনা করেন। আল্লামা মাসঊদ পূর্বেকার মিয়ানমারের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, মিয়ানমারের জাতির জনক জেনারেল অং সানের প্রধান সহযোগী আব্দুর রশীদ একজন মুসলিম ছিলেন। জেনারেল অং সান আর তাঁকে একই সঙ্গে হত্যা করা হয়। আজ কেন তাদের মাঝে বিভেদ থাকবে? মিয়ানমারের বৌদ্ধ-মুসলিম সম্প্রীতি সৃষ্টিতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।
মিয়ানমারের সহিংসতাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা চালানো হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ভান্তে ধর্মমিত্র মহাথেরো বলেন, বাংলাদেশে আমরা সবাই একসাথে বসবাস করি। আমি চোখ খুলে আপনাকে দেখি, আপনি আমাকে দেখেন। অন্যদেশের সহিংসতা আমাদের মাঝে শত্রুতা তৈরী করবে কেন?
রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশে থাকায় তিনি বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মগুরুদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ও একই সঙ্গে তাদেরকে মিয়ানমার সফর করে সেখানকার ধর্মগুরুদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সচেষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করতে পরামর্শ দেন।
রোহিঙ্গা সমস্যাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করতে পারে সে ব্যাপারে তিনি সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মাওলানা জুনুদ উদ্দীন মাকতুম, আম্বরশাহ মসজিদের খতীব মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের উপ প্রধানসহ বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ।