কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধুর “কারাগারের রোজনামচা” পৌছে দেয়া উচিৎ। তাহলেই তিনি বুঝতে পারবেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনতে বঙ্গবন্ধুসহ রাজনৈতিক নেতাদের জেলে কি ধরনের জীবন যাপন করতে হয়েছে। সে তুলনায় তিনি প্রথমদিন থেকেই কারাগারে রানীর হালে আছেন। কারাগারে কেউ বাইরে থেকে ব্যাক্তিগত পারিচারিকা পান তা আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জানা নাই। আর কেউ যদি ডিভিসনের আবেদন না করেই ডিভিসন দেয়া হয়নি বলে প্রচার পেতে চায় তাহলে আর কিছুই বলার থাকে না। মূলত: এসব কথা বলার আড়ালে বেগম জিয়ার দূর্নীতিকেই আড়াল কারার চেষ্টা করা হচ্ছে। দূর্নীতি দূর্নীতিই। দূর্নীতির কোন লঘু গুরু দন্ড নাই। একারনে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে মায়া কান্না করার কোনই অবকাশ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি।
আজ ১৭ ফেব্রæয়ারি, সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভি আই পি লাউঞ্জে, বাংলাদেশ আওয়ামী বাস্তুহারালীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে সুযোগ সুবিধার প্রসঙ্গে বলেন- “বেগম জিয়া কারাগারকে তার গুলশানের বাসা বানাতে চাচ্ছেন, ভি আই পি মর্যাদা চাচ্ছেন, আরাম আয়েশ করে থাকতে চাচ্ছেন। অথচ তিনি করেছেন দুর্নীতি। দুর্নীতির দায়ে দন্ডিত ব্যাক্তি কারাগারে আয়েশি জীবন যাপন করে বলে আমার জানা নাই।” সমাজকল্যাণমন্ত্রী ভারতের লালু প্রসাদ যাদবের পশু খাদ্য কেলেংকারিতে ৫ বছরের কারাভোগ ও জয় ললিতার মূখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কারাভোগের কথা উল্লেখ করে বলেন- “ভারতের লালু প্রসাদ যাদব ও জয় ললিতা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতির দায়ে বছরের পর বছর কারাভোগ করেছেন। কই সেখানেতো কোন মায়া কান্নার উদ্ভব ঘটেনি?”
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জিয়া পরিবার ধ্বংস হওয়া নিয়ে বলেন- “ জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছিলেন। তিনি ক্ষমতায় বসে তার শতশত সহকর্মীকে ফাঁসি দিয়েছিলেন যা এখন ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে কোন কথা বলা যায়নি। জজমিয়া নাটক সাজানো হয়েছিল। এ সবকিছুই আমাদের জানা। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সুনির্দিষ্টভাবে তারেক রহমানের নাম আসায় বলা হচ্ছে জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করা হচ্ছে। দেশের মানুষ এখন আর জিয়া পরিবারকে পছন্দ করেনা। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণের ফলে দেশের মানুষের মধ্যে এই আস্থাবোধ চলে এসেছে যে, দেশে ন্যায় বিচার আছে।”
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এরপর তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাস্তুহারা মানুষের অবদানের কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী বাস্তুহারা মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর বিশেষ মমত্ববোধের কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধু গরিব বস্তিবাসীদের নিয়ে ভাবতেন। তাদের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। তাঁর মেয়ে বঙ্গবন্ধু কণ্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা ৯৬ তে ক্ষমতায় এসেই বাস্তুহারাদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহন করেন। মন্ত্রী আরও বলেন বাস্তুহারাদের বাসস্থান তাদের মৌলিক অধিকার। পুনর্বাসন ছাড়া বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা যাবেনা। তবে বস্তিতে নেশা দ্রব্য বিক্রি হয় কিনা সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এম এ হামিদ খান ঢাকা সিটিকর্পোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, নজরুল ইসলাম বাবুল সাধারণ সম্পাদক কলাবাগান থানা আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী বাস্তুহারালীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুদ্দিন খান (টেনু মিয়া), ২১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবু মতিলাল রায়, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা।