আজ ১২ নভেম্বর’২০২১, রোজ: শুক্রবার গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডাশনের উদ্যোগে কর্মক্ষেত্রে “কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি নিরসনে আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুস্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন চাই” জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক সমাবেশ ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত।
অর্থনীতির চাকা ঘোরে শ্রমিকের শ্রমে ও ঘামে। খাদ্যের নিশ্চয়তা, অর্থনীতিকে সচল রাখা, দেশকে স্ব-নির্ভর রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তোলার পেছনে আছে শ্রমজীবীদের অক্লান্ত পরিশ্রম। যেখানে নারী শ্রমিকের অংগ্রহণ ক্রমশ: বাড়ছে। প্রাতিষ্ঠানিক এবং অ-প্রাতিষ্ঠানিক উভয়খাতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও কর্মস্থলে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যায় নি, প্রতিরোধ করা যায় নি কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি। কর্মক্ষেত্রে যে কোন ধরনের যৌন হয়রানি মানবাধিকারের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা।

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও “কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি নিরসন কনভেনশন-১৯০” (“ইলেমিনেশন অব ভায়োলেন্স এন্ড হেরাসমেন্ট ইন দি ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক”) প্রণয়ন করে যা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সহিংসতা ও হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ তথা সহিংসতা ও হয়রানির ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্ট’ কর্মপরিবেশ উন্নয়ন করা আইএলও সদস্যভুক্ত প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বাংলাদেশ সরকারকর্তৃক আইএলও কনভেনশন-১৯০ অনুস্বাক্ষরের দাবী আজ সকলের। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানী বন্ধে এই কনভেনশনটি বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত হলে, বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেমন সুদৃঢ় করবে তেমনি বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবে।

কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের হয়রানি এবং নির্যাতন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের সুপারিশমালা এবং মানদন্ড নির্ধারণ করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে আইএলও একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে যা ‘ব্লু’ রিপোর্ট নামে পরিচিত। রির্পোটে কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে সরকার, মালিক এবং শ্রমিক সংগঠন সমূহের বিভিন্ন দায়িত্ব এবং একই সাথে সরকার, মালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধি ডেলিগেশনে নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। তাই বাংলাদেশ সরকারকে কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুস্বাক্ষর করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

শ্রমিক সমাবেশে গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস, যুগ্ম সম্পাদক খাদিজা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা সেলিনা হোসেন, মোঃ ফরিদ উদ্দীন, রোজিনা আক্তার সুমি, রাবেয়া ইসলাম, মোঃ তাহেরুল ইসলাম, সংগঠক মোঃ আজিম, নুরজাহান বেগম, মোঃ ফারুক হোসেন, জোসনা, সালমা, রোকসানা, আমেনা, আহম্মদ ফ্যাশন্স শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুমন হোসেন প্রমুখ।

সংহতি বক্তব্য রাখেন টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হোসাইন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবীব বুলবুল, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম মিন্টু,জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তফা, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট-বাংলাদেশের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন সহিদ,টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা, প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শিরিন সিকদার, নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ সামছুদ্দিন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম আক্তার শিউলী।

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দাবি সমূহ ঃ

১. আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুস্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন কর।
২. আইন করে সহিংসতা ও হয়রানি নিষিদ্ধ কর।
৩. যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা আইনে রূপান্তর কর।
৪. কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন কর।
৫. কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানিমুক্ত কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত কর।
৬. ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য প্রতিকার এবং সহায়তা পাওয়া নিশ্চিত কর।

LEAVE A REPLY