এবছরের ৪ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৭০ দেশের অংশ গ্রহনে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত হবে ২১তম কমনওয়েলথ গেমস ২০১৮। এ গেমসে বাংলাদেশ মোট ৬টি ডিসিপ্লিনে খেলোয়াড় পাঠাচ্ছে। ইভেন্ট গুলো হলো : ভারোত্তোলন, শ্যুটিং, এ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, সাঁতার ও কুস্তি। বিশে^র অন্যতম জনপ্রিয় এ গেমসে ভালো করার লক্ষ্যে গত ২০১৭ সালের ১ অক্টোবর থেকে আর্মি স্টেডিয়ামে চলছে ভারোত্তোলকদের আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দলে খেলোয়াড় হিসেবে মেয়েদের ৫৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে অনুশীলন করছেন ফুলপতি চাকমা, ৬৩ কেজিতে মাবিয়া আক্তার সিমান্ত, ৫৮ কেজিতে ফাহিমা আক্তার ময়না এবং ৭৫ কেজিতে জহুরা খাতুন নিশা। আর দলে একমাত্র পুরুষ হিসেবে ৬৯ কেজিতে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে শিমুল কান্তি সিংহ। সকাল ১০ থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলমান অনুশীলন ক্যাম্পে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিদ্যুৎ কুমার রায়।
এখন পর্যন্ত কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ডিসিপ্লিন কোন সাফল্যের মুখ দেখেনি। তবে ২০১৩ সালে মালয়েশিয়াতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ২টা সিলভার মেডেল এবং ২০১৫ সালে ভারতের পুনেতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ১টি স্বর্ণ ও ২টি রৌপ্য পদক জয় করে ২০১৬ তে ভারতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে স্বর্ণ পদক জয়ী মাবিয়া আক্তার সিমান্ত। ২০০৮ সালে ভারতের পুনেতে অনুষ্ঠিত যুব কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছিল ফাহিমা আক্তার ময়না। এছাড়া ২০১১ সালে মালয়েশিয়াতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ফুলপতি চাকমা ও ময়না দুজনই পায় সিলভার মেডেল। এই হলো কমনওয়েলথ সংশ্লিট গেমসে বাংলাদেশের ভারোত্তোলকদের সাফল্য। ঐ ফলাফলকে পুজি করে আসন্ন কমনওয়েলথ গেমসে ভাল করার চেষ্টায় অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পে থাকা ভারোত্তোলকরা।
বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক লে: কর্ণেল মো: নজরুল ইসলাম প্রায় অনুশীলন ক্যাম্প পরিদর্শনে আসছেন এবং নানা ভাবে খেলোয়াড়দের উৎসাহ প্রদান করছেন। শনিবার (ফেব্রুয়ারি) ক্যাম্প পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, আমরা খেলোয়াড়দের খেলার মান বৃদ্ধির জন্য তাদের নানা ভাবে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। একটি ভাল প্যাকটিস ভেন্যু তৈরীর পরিকল্পনা ইতি মধ্যে করা হয়েছে। অরিচরেই খেলোয়াড়দের যাতায়াত এবং ফেডারেশনের কাজের গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা করবো। পাশাপাশি আমরা পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের নিয়মিত বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি অচিরেই। সবমিলে দেশের ভারোত্তোলনের উন্নয়নে যা করলে ভাল হবে সেইসব কাজ গুলো আমরা সবাই মিলে করতে চায়।
আর সব খেলোয়াড়দের কথা অভিন্ন। তারা জানান, আমরা নিজেদের সেরা দেয়ার মানসিকতা নিয়ে অনুশীলন করে যাচ্ছি। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নজরুল স্যার তিনি আমাদের অনেক খোঁজ খবর রাখছেন। আশা করি আমরা ভাল কিছু করতে পারবো।