হংকংয়ে অনুষ্ঠিত চারজাতি জকি ক্লাব গার্লস আন্তর্জাতিক আমন্ত্রণমূলক ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দল। হংকংয়ে বাংলাদেশ দলের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলকে আজ বৃহস্পতিবার সংবর্ধনা দিয়েছে ওয়ালটন গ্রুপ। দলের প্রত্যেককে ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে আকর্ষণীয় হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হয়।

 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য, উইমেন্স কমিটির চেয়ারম্যান ও ফিফার নির্বাচিত সদস্য মিস মাহফুজা আক্তার কিরণ, সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ, বাফুফের সদস্য ও হংকংয়ে বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু, কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন, অধিনায়ক মারিয়া মান্ডাসহ দলের সকল খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাগণ।

 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওয়ালটন গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘হংকংয়ে যাওয়ার আগে আমাদের প্রত্যাশা ছিল মেয়েরা ভালো করবে। তারা আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। সে জন্য তাদের আরো একবার অভিনন্দন জানাতে চাই। ধন্যবাদ জানাতে চাই ওয়ালটন গ্রুপকে। তারা সব সময় আমাদের পাশে থাকছে। যেভাবেই হোক তারা মেয়েদের ফুটবলের সঙ্গে থাকছে। সে জন্য তাদের কাছে আমরা অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। আজ তারা মেয়েদের সংবর্ধনা দিচ্ছে। সে জন্য আরো একবার তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করব ভবিষ্যতেও তারা আমাদের পাশে থাকবে।’

 

এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) বলেন, ‘হংকংয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের ও কর্তমর্কতাদের ধন্যবাদ জানাই। তাদের এমন সাফল্যে আমরা আনন্দিত। আমাদের বিশ্বাস ছিল তারা হংকংয়ে ভালো করবে। তাদেরকে আমাদের প্রতিশ্রুত সংবর্ধনা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। মেয়েদের ফুটবলের সঙ্গে আমরা নিয়মিত থাকছি। সামনে মেয়েদের ছয়টা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট রয়েছে। চেষ্টা করব সেগুলোর সঙ্গেও থাকতে। আমরা বিশ্বাস করি এই মেয়েরা অনেক দূর যেতে পারবে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে রাখতে হবে। ছোটন ভাই, কিরণ আপা, পল স্মলি সবাই মেয়েদের নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছেন। সেটার ফল এখন আমরা পাচ্ছি। আশা করব ভবিষ্যতে তারা আরো ভালো করবে।’

 

৩০ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত হংকং, বাংলাদেশ, ইরান ও মালয়েশিয়া অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় চারজাতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ১০-১ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করে বাংলাদেশের কিশোরীরা। পরের ম্যাচে ইরানের মেয়েদের ৮-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে যায়। আর শেষ ম্যাচে ৬-০ গোলে হংকংকে উড়িয়ে দিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের মেয়েরা।

 

বাংলাদেশ দলের ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুন তিন ম্যাচের দুটিতে হ্যাটট্রিক ও অপর ম্যাচে জোড়া গোল কওে মোট ৮ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পান। আর ৬ গোল করা শামসুন্নাহার পান টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার।