ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১১ ও ২০১৫ সালে দুটি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছিলেন আব্দুল হালিম। এবার চলতি বছর ওয়ালটনের ব্যানারে আরো একটি রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের এই খ্যাতিমান ফুটবল প্রদর্শক।

১০ আগস্ট গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ আব্দুল হালিমের বল মাথায় নিয়ে সাইকেল চালিয়ে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব (১৩.৭৪ কিলোমিটার) অতিক্রম করার  প্রচেষ্টার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্য দিয়ে মার্সেল এবং ওয়ালটনের ব্যানারে হ্যাটট্রিক রেকর্ড গড়েন মাগুরার এই কৃতি সন্তান।

ওয়ালটন এবং মার্সেলের ব্যানারে তৃতীয়বারের মতো রেকর্ড গড়ায় আজ বৃহস্পতিবার আব্দুল হালিমকে সংবর্ধনা দেয় ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আব্দুল হালিমের হাতে নগদ দুই লাখ টাকা ও একটি ওয়ালটনের এলইডি টিভি তুলে দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ ও ওয়ালটন গ্রুপের অপারেটিভ ডিরেক্টর (হেড অব স্পোর্টস এন্ড ওয়েলফেয়ার) এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আব্দুল হালিমের রেকর্ড গড়ার প্রক্রিয়ার প্রধান সমন্বয়কারী রায়হান আল মুঘনী।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আব্দুল হালিম তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আজকের আমি যে আব্দুল হালিম, সেটা ওয়ালটনের কারণে। ওয়ালটন পাশে না থাকলে আমি আজকের এই আব্দুল হালিম হতে পারতাম না। সে জন্য ওয়ালটন গ্রুপের সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ধন্যবাদ জানাচ্ছি রায়হান ভাইকে। তিনি আমার তিনটি রেকর্ডের সময়ই আমার পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। ধন্যবাদ জানাচ্ছি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও আমার এই তিনটি রেকর্ড গড়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কমিটিতে যারা ছিলেন তাদের সবাইকে। এই রেকর্ডগুলো আমার ২৬ বছরের সাধনার ফল। আমি জানি না বাংলাদেশের কোনো ফুটবলার ২৬ বছর খেলেছে কিনা। আমি তিন-তিনবার গিনেস বুকের স্বীকৃতি পেয়েছি, কিন্তু দেশের কাছ থেকে আমি এখনো জাতীয়ভাবে কোনো স্বীকৃতি পাইনি।’

এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) বলেন, ‘আব্দুল হালিম যখন প্রথম আমাদের কাছে আসেন তখন কিন্তু এই হালিম ছিলেন না। একজন সহজ-সরল, সাদামাটা মানুষ ছিলেন। ২০১১ সালে তাকে প্রথম আমাদের অফিসে টেস্ট দেই। সে সময় সে তার দক্ষতার প্রমাণ দেয়। এরপর সেই বছর মার্সেল এর ব্যানারে বল মাথায় নিয়ে হেঁটে একটি রেকর্ড গড়েন তিনি। এরপর ২০১৫ সালে ওয়ালটনের ব্যানারে আরো রেকর্ড গড়ে। এরপর সবশেষ চলতি বছর ওয়ালটনের ব্যানারো আরো একটি রেকর্ড গড়ে। আগের দুটি রেকর্ড গড়ার সঙ্গে এবারের এই রেকর্ডের বেশ পার্থক্য রয়েছে। এবারের এই রেকর্ডের স্বীকৃতি পেতে সবাইকেই অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ নানাভাবে এই রেকর্ডের কাগজপত্র ও প্রমাণাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে। আমাদের সবাইকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। এরপর স্বীকৃতি দিয়েছে। তিন-তিনবার রেকর্ড গড়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করায় হালিমকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের বিশ্বাস হালিম ডজনখানেক রেকর্ড গড়ার সামর্থ রাখে। হালিমের মতো আরো কয়েকজনকে খুঁজে বের করেছি আমরা। তারা অন্য কিছু ক্যাটাগোরিতে দক্ষ। তাদের দিয়েও রেকর্ড গড়ব। সিনিয়র হিসেবে আব্দুল হালিম তাদের গাইড করবে। আমরা চাই দেশের এই ধরনের ট্যালেন্টগুলোকে খুঁজে বের করে তাদের দিয়ে রেকর্ড গড়িয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা ওয়ালটনকে ধন্যবাদ জানাই। তারা যে শুধু হালিমকে দিয়ে রেকর্ড গড়াচ্ছে তাই নয়, দেশের সব খেলাধুলার সঙ্গেই আছে। এমনও দিন গেছে যেদিন আমি তিনটি খেলার প্রোগ্রামে গিয়ে দেখি তিনটিই ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায়। দেশের প্রত্যেক ফেডারেশনই ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় টুর্নামেন্ট করছে। খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য-সহযোগিতা করছে ওয়ালটন। বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে ওয়ালটন না থাকলে বিভিন্ন ফেডারেশনের খেলাধুলাই হবে না। যারা ডোনেশন পায় না কিংবা বরাদ্ধ পায় না। ওয়ালটন গ্রুপের কাছে অনুরোধ থাকল হালিমকে যদি সম্ভব হয় তাহলে স্থায়ী কিছুর ব্যবস্থা যাতে করে দেয়। যেভাবে ওয়ালটন হালিমকে সহযোগিতা করেছে সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। হালিম মানুষকে আনন্দ দেয়। রেকর্ড গড়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করে। কিন্তু তারও একটা পেট রয়েছে। তার পিছুটান না থাকলে হয়তো আরো ভালো কিছু করতে পারবে। তার জন্য আমরাও চেষ্টা করব। পরিশেষে বলব ওয়ালটন উত্তোরোত্তর সাফল্য পাক। বাংলাদেশ ও দেশের বাইরের বাজারে ওয়ালটনের পণ্যের বাজার আরো বিস্তৃত হোক। ওয়ালটন বেঁচে থাকুক ওয়ালটনের জন্য নয়, আমাদের জন্য। ক্রীড়ার জন্য।’