ঢাকা: ০৫ র্মাচ ২০১৮ সোমবার ঃ
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকালে বাসা থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়তে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ পরীক্ষার্থী নিহত এবং ৬১ পরীক্ষার্থী আহত হয়েছে। এছাড়াও রেলপথে ১ জন ও নৌকা ডুবিতে ১ জন সহ সর্বমোট ২৬ জন নিহত হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল আজ ৫ মার্চ ২০১৮ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরে। প্রতিবেদন অনুযায়ী- বিদায়ী বছরের ৫ সেপ্টেম্বর এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে বরিশালের আগৈলঝড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান। ২৯ সেপ্টেম্বর ভোলা সদর উপজেলায় নছিমন চাপায় নিহত হয় এসএসসি পরীক্ষার্থী জাবেদ ওমর। ১৩ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রুদ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী রায়হান পারভেজ নিহত হয় । ৫ ডিসেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত হয় ঈদগাহ বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী জবরুল ইসলাম মান্না। ১৭ ডিসেম্বর শেরপুরের নকলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় এসএসসি পরীক্ষার্থী শাকিল খান। ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারী মাগুরার মহাম্মদপুরে ট্রলি চাপায় নিহত হয় কানুটিয়া আ. আলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী উলফাত মোল্লা। ২০ জানুয়ারী বরিশালের বাকেরগঞ্জে ট্রলির নিচে চাপা পড়ে নিহত হয় এসএসসি পরীক্ষার্থী মাসুদ মল্লিক। ২৫ জানুয়ারী ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ি চাপায় নিহত হয় শরীফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহিম খন্দকার ও নাঈম খান। ২৭ জানুয়ারী মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বাস চাপায় নিহত হয় এসএসসি পরীক্ষার্থী শাকিল খান। ৩০ জানুয়ারী ময়মনসিংহের ভালুকায় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয় ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সাজিদ পাঠান।
৩১ জানুয়ারী রংপুরের বদরগঞ্জে স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত হয় বদরগঞ্জ মডেল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সেরাজুল ইসলাম ও রোকন মিয়া। এই ঘটনায় আহত পরীক্ষার্থী মিলন। ১ ফেব্রুয়ারী বিএম ইউনিয়ন স্কুলের পরীক্ষার্থী অন্তর ও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী সিফাত নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় আহত হয়। ৩ ফেব্রুয়ারী ঝালকাঠির নলছিটিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে টেম্পুর চাকা খুলে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হয় সুবিদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১ এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ১৪ জন। একইদিনে খুলনার বটিয়াঘাটা বাইপাস সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত হয় বটিয়াঘাটা হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সৌরভ। ৪ ফেব্রুয়ারী ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এসএসসি পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক চাপায় নিহত হয় পরীক্ষার্থী রনি। ৫ ফেব্রুয়ারী রাজশাহীর পুঠিয়ায় পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার পথে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে পুঠিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও হাবিল উদ্দিন এবং মোস্তাফিজুর রহমানের পিতা আবদুল মোমিন নিহত হয়। ৭ ফেব্রুয়ারী ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাসের ধাক্কায় নিহত হয় মোটরসাইকেল আরোহী শাহ জাফর টেকনিক্যাল কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম। আহত হয় আরো ২ পরীক্ষার্থী। একইদিনে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বালুভর্তি ট্রাকের ধাক্কায় আহত হয় চালা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪ পরীক্ষার্থীসহ তাদের সহগামী শিক্ষক। এছাড়াও পাবনার চাটমোহরে আনুকাটিয়া মোড়ে অটোবাইক-নছিমন মুখোমুখী সংঘর্ষে আহত হয় ৫ এসএসসি পরীক্ষার্থী। ৮ ফেব্রুয়ারী ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বাবার সাথে মোটরসাইকেলে করে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার সময় পাওয়ার ট্রলির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পরীক্ষার্থী সুমী আকতার গুরুতর আহত হয়ে প্রাণে বেচেঁ গেলেও নিহত হয় পিতা আব্দুর রহিম। ১০ ফেব্রুয়ারী ভোলার মনপুরায় পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে টেম্পু-অটো সংঘর্ষে আহত হয় পরীক্ষার্থী পুষ্পিতা রাণী দাস ও আখীঁ রাণী দাস। একইদিনে ঝালকাঠির রাজাপুরে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে টেম্পু উল্টে আহত হয় ভাতকাঠি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ১০ জন। ১২ ফেব্রুয়ারী রাজশাহীর বাঘায় পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল- ট্রাক সংঘর্ষে আহত হয় এসএসসি পরীক্ষার্থী শাওন ও হাবিবুর।
একইদিনে পটুয়াখালীর বাউফলে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় টেম্পু উল্টে আহত হয় এফ এইচ সিনিয়র মাদ্রাসার ৬ পরীক্ষার্থী । ১৮ ফেব্রুয়ারী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংর্ঘষে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান মাহিমা রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী বৈশাখী আক্তার এবং আহত হয় তার মামা। ২০ ফেব্রুয়ারী রংপুরের পীরগঞ্জে পরীক্ষা শেষে বাবার সাথে ভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে মনিরা খাতুন নিহত হয়।
২১ ফেব্রুয়ারী কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে দুই মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত হয় পরীক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান এবং আহত হয় ৬ পরীক্ষার্থী। ১ মার্চ পটুয়াখালির কলাপাড়ায় বাস ইজিবাইকে ধাক্কা দিলে আহত হয় ৪ পরীক্ষার্থী। ২ মার্চ খুলনা ডুমুরিয়ায় মাইক্রো-বাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে পরীক্ষাথী মেহেদী হাসান নিহত ও ২ পরীক্ষার্থী আহত হয়। এছাড়াও ২৭ জানুয়ারী ঢাকা-ইশ্বরদী রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী মঈন উদ্দিন মন্ডল মারা যায়। ১৪ ফেব্রুয়ারী নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় নৌকাডুবিতে এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম শান্ত নিহত হয়।
সুপারিশমালা ঃ
১। প্রতিটি স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সড়ক ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা মূলক সভা করা।
২। একই ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা।
৩। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র যাতায়াতের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যানবাহনের ব্যবস্থা করা।
৪। যেসব স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী বেশি সেই সব স্কুলে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা।
৫। মোটর বাইক, ইজিবাইক, নছিমন-করিমনে পরীক্ষার্থী বহন নিষিদ্ধ করা।