সরকারি চাকরিতে আর কোটার দরকার নেই এবং তা থাকছেও না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একটি প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান। সাম্প্রতিক সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ১১ এপ্রিল সংসদে বক্তৃতাকালে কোটা বাতিলের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা হতাশ।

এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা থাকবে কি, থাকবে না তা ছাত্রদের বিষয় নয়। এটা সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়।

এসময় কোটা ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, কিন্তু তারা কোটা চায় না। তাই তাদের দাবি মেনে নিয়েছি। আর কোটার দরকার নেই, বাতিল করে দিয়েছি। এখন আর আলোচনার কী আছে?

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কেউ পরবর্তীতে জেলা কোটা না থাকার কারণে সরকারি চাকরি না পেয়ে চাইলেও পাবে না ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন জেলা কোটা না থাকলে আন্দোলনকারীদের কেউ পরে চাকরি না পেয়ে তা চাইলেও পাবে না। আন্দোলনে যারা যারা আছে, তাদের ছবি সংরক্ষণ করা আছে, তখন যদি কান্নাকাটি করে, তখন দেখা যাবে।

লন্ডনে অবস্থানরত একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দিয়ে দেওয়া এবং তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক দেশ থেকে এ ধরনের আসামি নিয়ে আসি। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেকের বিষয়েও আমরা ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। নিশ্চয়ই আমরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো।’

তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা চেয়ারপারসন করলো। বিএনপি নাকি সবচেয়ে বড়, জনপ্রিয় দল, তাদের দলে কি একজন যোগ্য লোকও নেই? এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে তারা চেয়ারপারসন করে? এ ধরনের রাজনৈতিক দেউলিয়া দল আর নেই।’