মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন

পৃথিবীতে মহান আল্লাহ্তা’য়ালা তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য ১ লাখ বা ২ লাখ ২৪ হাজার নবী, রাসুল বা পয়গম্বর যুগে-যুগে বা পর্যায়ক্রমে প্রেরণ করেছেন। এ নবী রাসূলগণ মহান আল্লাহ্ পাকের একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য মানবজাতিকে আহ্বান জানিয়েছেন। আমাদের আদি মানব বা আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) এবং মাতা হযরত হাওয়া (আঃ)-কে সৃষ্টির পূর্বে সৃষ্টিকর্তা জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেন এবং তারা ছিলো আগুনের দ্বারা সৃষ্ট। এ জ্বীনদের সৃষ্টির পর হাজার-হাজার বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তারা আল্লাহ্র আদেশ-নিষেধ অমান্য করার কারণে তাদেরকে আল্লাহ্ পাক ধ্বংস করে দেন। আমরা যার কাছ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সদা মহান আল্লাহ্তা’য়ালার কাছে সাহায্য কামনা করে বলে থাকি, আউযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়তা-নির রাজীম, এর অর্থ- ‘আমি আল্লাহ্র নিকট বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ সে আজাজীল বা শয়তানই বংশধরদের একজন। আজাজীল জ্বীন জাতির এক জন হলেও মহান আল্লাহ্তা’য়ালার কাছে প্রার্থনা দ্বারা তাঁর অতি প্রিয় পাত্র হওয়ার অধিকারী হয়েছিলেন। তিনি প্রার্থনা করতে করতে আল্লাহ্র এতো কাছে পৌঁছতে সক্ষম হন যে, আল্লাহ্তা’য়ালা তাকে ফেরেস্তাদের সরদার হিসেবে মনোনিত করেন। আজাজীল প্রায় ৯ লাখেরও বেশি সময় ধরে মহান আল্লাহ্ পাকের সান্নিধ্য লাভ করে সৃষ্টিজগতের কুদ্রতিসমূহ দেখার সুযোগ বা অনুমতি লাভ করে।

একদিন সকল ফেরেস্তা আল্লাহ্র নির্দেশে হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদাহ্ করলেও আগুনের তৈরি জ্বীন আজাজীল সেজদাহ্ করা থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহ্তা’য়ালার বিরাগভাজন হওয়ায় বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হন। আজাজীল মাত্র ১ টি আদেশ অমান্য করে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হয়ে আল্লাহ্র কাছে আদম সন্তান বা মানবজাতির সর্বব্যাপারে ক্ষতি করার প্রার্থনা করলে, আল্লাহ্ পাক সে প্রার্থনাও কবুল করেন। ইবলিশের কাজই হলো- আদম জাতিকে বিভিন্ন রকম ধোঁকা বা প্রতারণার দ্বারা বিপথে নিয়ে যাওয়া। তবে যারা সত্যিকারের আল্লাহ্র বান্দা তাদেরকে আজাজীল বা শয়তান লাখ-লাখ বা কোটি বার চেষ্টা করেও বিপথে নিতে পারবে না এবং সে ক্ষমতাও তার নেই। আল্লাহ্ পাক ইবলিশ বা শয়তানের বদমাশী থেকে বাঁচার জন্য তাঁর প্রিয় সৃষ্টিকুলকে পথও বাতলে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ্তা’য়ালা বলেন, ‘আমি শয়তান বা আজাজীলকে সৃষ্টি করেছি মানুষকে পরীক্ষার জন্য।’ শয়তানের ক্ষমতা অতি দুর্বল। যদি কোন মুমিন বান্দা সাহস করে শয়তানের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং আমার সাহায্য কামনা করে, তবে শয়তান ওই বান্দার সামনে দাঁড়াবারতো দূরের কথা, দৌঁড়িয়েও পালাবার পথ খুঁজে পাবে না।
এ ব্যাপারে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ পাক পবিত্র র্কোআনুল করীমে র্ইশাদ করেন, ‘যখন তোমরা র্কোআনুল করীম তিলাওয়াত করো, তখন তোমরা আল্লাহ্র নিকট এভাবে প্রার্থনা কর।’
অর্থাৎ , এভাবে বলো- ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম’- এর অর্থ হল: ‘আল্লাহ্র দরবারে আমি অভিশপ্ত শয়তানের অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ আল্লাহ্তা’য়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাদের আশ্বাস- বাণী দিয়ে বলেছেন, ‘হে শয়তান, নিশ্চয়ই আমার খাস বান্দাদের ওপর তোমার কোন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।’
এ সম্পর্কে পবিত্র র্কোআনে র্এশাদ হয়েছে- ‘অবশ্যই অবশ্যই আমি (শয়তান) আদমের বংশধরদেরকে পিষ্ট করে ফেলবো, অল্প কতেক ব্যতীত।’ (সূরা বনী ইসরাইল,আয়াত-৬২)। আজাজীল বা শয়তান ১৯ লাখ বছরের আমল কিভাবে বরবাদ হয়ে গেল এবং কোন অপরাধে অভিশপ্ত শয়তান হয়ে গেলো? এ সম্পর্কে প্রতিটি আদম সন্তানকে এর সুস্পষ্ট ধারণা থাকা একান্ত প্রয়োজন। আল্লাহ্তা’য়ালা শয়তানকে আদমকে সেজদাহ্ করতে আদেশ দিলে শয়তান ধৃষ্টতার সাথে জবাব দিয়েছিল, ‘আমি কি তাকে সেজদাহ্ করবো, যাকে তুমি মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছো।’(সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-৬২)। শয়তান আরো বলল, ‘আমি কখনও এমন মানুষকে সেজদাহ্ করতে পারি না।’ (সূরা হিজর, আয়াত-৩৩)। তাই শয়তানের যত আক্রোশ এ আদমের সাথে, কেননা তার কারণেই তাকে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছে। তবে আজাজীল বা শয়তান কিন্তু তখনও আল্লাহ্কে মানতে এবং ভয় করতেন, এখনও মনে প্রাণে আল্লাহ্কে স্বীকার করেন ও ভয় পান। এ সম্পর্কে র্কোআনে সূরা হাশরের ১৬ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমি (শয়তান) আল্লাহ্কে ভয় করি, যিনি সকল আলমের রব।’

পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ) থেকেই পৃথিবীর মানবজাতির সৃষ্টি। আবার তাঁদের মধ্য দিয়ে মানব জাতিকে সুপথ প্রাপ্তির জন্য রাব্বুল আল-আমিন যুগে যুগে নবী ও রাসূল দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। এ সকল নবী ও রাসূলগণ তাঁদের কওম বা মানব জাতিকে সত্য ও ন্যায় পথের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের আহ্বান ছিলো- ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ অর্থাৎ , ‘মহান আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয়।’ তাঁরা তাঁদের কওমকে আল্লাহ্র ইবাদাত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ তাঁদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে অবাধ্য হয়ে বিপথে পরিচালিত হয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ আল্লাহ্র পথে না এসে তাদের ইচ্ছানুযায়ী পথে চলতে গিয়ে আল্লাহ্র বিরাগভাজন হয়ে অভিশপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহ্ পাক সীমালঙ্ঘনকারী অনেক জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। র্কোআনুল পাকে মহান আল্লাহ্তা’য়ালা ধ্বংসপ্রাপ্ত যে সকল জাতির নাম বলেছেন, তারা হচ্ছে- আদ্, সামুদ, লুত, নূহ্, সাবা, তুব্বা, বনি ইসরাইল, আস্হা কাহফের সাথে সংশ্লিষ্টরা, ইসরাত, আস্হাবুর রাশ, আস্হাস সাবত, আসহাবুল কারিয়াহ্, আসহাবুল আইকা, আসহাবুল উখ্দুদ, আসহাবুল ফিল।

হযরত আদম (আঃ) ৯৬০ বছর বয়সে মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার পর অসংখ্য নবী এবং রাসূল এ দুনিয়াতে আগমণ করেন। আমাদের ধর্মে ১ লাখ বা ২ লাখ নবী ও ২৪ হাজার রাসূল এর কথা উল্লেখ থাকলেও আমরা মাত্র কয়েকজন নবী এবং রাসূলের নামই জানি।
তাঁদের মধ্যে যথাক্রমে- হযরত আদম (আঃ), হযরত শীশ (আঃ), হযরত ইদ্রিস (আঃ), হযরত নূহ (আঃ), হযরত হুদ (আঃ), হযরত সালেহ্ (আঃ), হযরত ইব্রাহিম (আঃ), হযরত ইস্মাইল (আঃ), হযরত ইসহাক (আঃ), হযরত লুত (আঃ), হযরত ইয়াকুব (আঃ), হযরত ইউসুফ (আঃ), হযরত আইউব (আঃ), হযরত শুআইব (আঃ), হযরত মুসা (আঃ), হযরত ইলিয়াস (আঃ), আলয়াস (আঃ), হযরত জুলফিকল (আঃ), হযরত ঈসমাইল (আঃ), হযরত দাউদ (আঃ), হযরত সুলেমান (আঃ), হযরত লোকমান (আঃ), হযরত ইউনুস (আঃ), হযরত উজাইর (আঃ), হযরত জাকারিয়া (আঃ), হযরত ইয়াহিয়া (আঃ), হযরত ঈসা (আঃ) ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)।

প্রতি নবী ও রাসূলের ওপর মহান রাব্বুল আল-আমিন ঐশী বাণী নাজিল করেছেন। তবে আমরা তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও র্কোআন এর কথাই বেশি-বেশি করে জানি। তবে সর্বশেষ ধর্মগ্রন্থ র্কোআন নাজিল হয়েছে নবীকুল শিরোমণি শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর ওপর। পবিত্র র্কোআন শরীফের সূরা নাহ্ল এর ৩৬ নং আয়াতে মহান আল্লাহ্ পাক র্এশাদ করেছেন, ‘আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল পাঠিয়েছি এ বলে যে, তোমরা কেবল আল্লাহ্র ইবাদত কর আর তাগুত (গাইরুল্লাহ্) থেকে বেঁচে থাকো।’ এখানে, তাগুত বলতে সীমলঙ্ঘনকারীকে বোঝানো হয়েছে।
মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্তা’য়ালা হযরত নূহ্ (আঃ) এর সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে সূরা হুদের ২৫ নং আয়াতে র্এশাদ করেন, ‘অবশ্যই আমি নূহ্কে স্বীয় জাতির নিকট পাঠিয়েছি যে, অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট ভীতি প্রদর্শণকারী। তোমরা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না। আর আমি তোমাদের নিকট এক ভীষন যন্ত্রনাদায়ক দিনের শাস্তি আশংকা করছি।’ আল্লাহ্ পাক সূরা নিসার ৩৬ নং আয়াতে ফরমান, ‘আর তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত করো, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না।’ আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা জ্বীন ও ইনসান উভয় জাতিকে শুধু তাঁরই ইবাদত করতে বলেছেন এবং তিনি এ জন্যই তাদের পয়দা করেছেন। এ সম্পর্কে রাব্বুল আল্-আমিন পবিত্র কোরআনের সূরা জারিয়াতের ৫৬ নং আয়াতে বলেন, ‘আমি জ্বীন ও ইনসানকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ আল্লাহ্তা’য়ালা তাঁর পবিত্র র্কোআনে সূরা বনি ইস্রাইলের ১৫ নং আয়াতে র্এশাদ করেছেন, ‘আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেই না।’ সূরা আল বাকারাহ্ এর মধ্যে ২৫৩ ও ২৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ্তায়ালা র্এশাদ করেছেন, ‘সর্বপ্রথম নবী হযরত আদম (আঃ), যিনি সর্বপ্রথম মানুষ ও মানবকুলের পিতা। আর প্রথম রাসূল হচ্ছে- হযরত নূহ (আঃ)। সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তারা নবুওয়াতে এবং ঈমান আনার ব্যাপারে সকলে সমান। কিন্তু আল্লাহ্ প্রদত্ত মর্যাদায় তারতম্য আছে।’

মুসলিম জাতির একমাত্র কাজ বা ঈমানী দায়িত্ব হলো- ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলা। আর এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে আমল করা এবং ব্যবহারিক জীবনে সে আমলেরই প্রতিফলন ঘটিয়ে চলা। এ ছাড়াও শেষ বিচার দিনের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখা। সকল ফেরেস্তাদের ওপর বিশ্বাস, আস্মানী গ্রন্থসমূহের ওপর বিশ্বাস ও নবী-রাসূলদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। এ সম্পর্কেও মহান আল্লাহ্ তা’য়ালা সূরা আর-বাক্কারাহ্ এর ১৭৭ নং আয়াতে বলেছেন, ‘পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোটা পুর্ণ নয়। বরং পূর্ণ হচ্ছে, যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে আল্লাহ্তায়ালাকে, বিশ্বাস করে শেষদিন ও ফেরেস্তাদেরকে। আর বিশ্বাস করে আসমানী গ্রন্থসমূহ ও নবী-রাসূলদেরকে।’ সংঘবদ্ধতা সম্পর্কে মহান রাব্বুল আল্-আমিন সূরা আলে ইম্রানের ১০৮ নং আয়াতে বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন
এক দল লোক অবশ্যই থাকতে হবে, যারা মানুষকে কল্যাণ ও মঙ্গলের দিকে ডাকবে। ন্যায় ও সৎ কাজের নির্দেশ দিবে, আর পাপ ও অন্যায় কাজে বাঁধা দেবে। যারা এ কাজ করবে, তারাই সাফল্য অর্জন করবে।’ অপর এক আয়াতে মহান আল্লাহ্তা’য়ালা বলেন, ‘তোমরা সর্বোত্তম উম্মাহ্। তোমাদের উত্থান করা হয়েছে মানব জাতির পথ প্রদর্শন ও সংশোধনের উদ্দেশ্যে। তোমরা মানুষকে সৎ ও ন্যায়ের আদেশ দিবে, আর অন্যায় অপরাধ থেকে বিরত রাখবে এবং আল্লাহ্র প্রতি থাকবে অবিচল আস্থাশীল।’ (সূরা আল্-ইম্রান, আয়াত-১১০)।

আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, এক ধরনের রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা এবং জনগণের বা রাষ্ট্রের অর্থ-সম্পদ অর্থ-সম্পদ চুরি বা আতœসাৎ করে বিপুল অর্থ-সম্পত্তির মালিক হচ্ছে। জনগণের অর্থ-সম্পদ আতœসাৎ করে, আবার বিদেশের মাটিতে বিলাসবহুল বাড়ী তৈরি করছে, মিল কল-কারখানা ও ব্যাংক ব্যালান্স করছে। মূলতঃ হক প্রধানত দুইটা। একটা হল- সরাসরি আল্লাহ্তা’য়ালার হক ও দ্বিতীয়টা হল- তাঁর বান্দার হক। এ দু’টি হক সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক নিজে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি বান্দার হক ক্ষমা করবেন না। তা হলে যারা দেশবাসীর হক নষ্ট করছে বা অর্থ-সম্পদ চুরি করে অর্থ-বিত্তের পাহাড় গড়ছে, তাদের অবস্থাটা হবে কি…….! তাহলে কি আমাদের দেশের বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও আমলারা দোযখে যাবে?

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীসহ এমপি, মন্ত্রী, উপদেষ্টাসহ বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধিদের বেতন-ভাতা ১২৩% ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আবার বৈশাখী বোনাসসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তার পরেও যারা দুর্নীতি করে, ঘুষ খায়, রাষ্ট্রের অর্থ-সম্পদ চুরি করে তারা মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কি ক্ষমা পাবে? মহান আল্লাহ্পাক যে ফর্র্মুলা দিয়েছেন, তাতে তারা ক্ষমা পাবে না। তাই তাদের স্থান হবে জাহান্নামে। মানুষ আর কত দিন এ দুনিয়ায় বেঁচে থাকে। তার জন্য এতটা খোদা বিরোধী হয়ে লাভটাই বা কি? অথচ প্রতিটি মুসলমানেরতো মৃত্যুর পরেই আসল জীবন শুরু। এ দুনিয়াটা সত্যিই খেলা ঘরের চেয়েও খারাপ। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্তা’য়ালা র্কোআনে সূরা আল্-বাকারাহ্ এর ১৮৮ নং ও সূরা নিসার ২৯ নং আয়াতে র্এশাদ করেছেন, ‘তোমরা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’
যে সকল জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের পূর্বে জনগণের সামনে গিয়ে বলেন সমাজ সেবার কথা বা পোষ্টারে লিখে দেওয়ালে বা বাড়ীর আনাচে-কানাচে লাগিয়ে দেন। জয়লাভের পরেই তারা জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি বা জনগণের অধিকার খর্ব করে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়ে যায়। তারাতো সরাসরি জনগণের সাথে বেঈমানী বা মোনাফেকী করলো। এ মোনাফেকদের যে কত বড় শাস্তি হবে, তা তারা কেন বোঝে না! তাছাড়া, হুক্কুল ইবাদত বা হুকুক্কুল্লাহ্ ইবাদত ওইসব জনপ্রতিনিধিরা হুক্কুল ইবাদত যে বরখেলাপ করে চলেছে, তাদের স্থানতো স্বাক্ষাত দোযখে।
এছাড়া আর একটি হাদিসে বলা হয়েছে, ‘ঘুষদাতা আর ঘুষগ্রহীতা দু’জনেই দোযখে যাবে।’ তাহলে ওই সকল মানুষ মাত্র দু’দিনের সুখ-শান্তির জন্য এত বড় বড় অপরাধ করছে! এ সকল নির্বোধ, মূর্খ ও আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করে গণআদালতে বিচার করতে হবে।
তবে এরকম দুর্নীতিবাজদের বিচারের ভার যখন রাষ্ট্র নিচ্ছে না, বরং এদেরকে উৎসাহিত করছে, তখন এদের বিচারের দায়িত্ব দেশবাসীকেই নিতে হবে। হয়তো এ সব দুর্নীতিবাজদের রাস্তাঘাটে অপমান-অপদস্ত করবে বা জুতোপেটা করবে, তা আর হয়তো বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। কেননা, জনগণের ধৈর্যের বাঁধ আস্তে আস্তে ভেঙ্গে যাচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ওই সব দুর্নীতিবাজদের কাঁধে ইবলিশ ভর করেছে। ওরা ইবলিশকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে, আর মহান আল্লাহ্তা’য়ালা’র আদেশ-নির্দেশকে রীতিমতোভাবে অমান্য করে চলছে। মহান সৃষ্টিকর্তা সূরা ইউসুফের ৫ নং আয়াতে বলেছেন, ‘শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্র“।’

আমার লেখার কলেবর আর দীর্ঘায়িত করবো না। আর মাত্র কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করে আমার লেখা শেষ করবো। তবে তার আগে পবিত্র র্কোআনের একটি আয়াতের কথা উল্লেখ করছি। মহান আল্লাহ্ পাক সূরা বাকারাহ্ এর ১৩০-১৩২ নং আয়াতে বলেন, ‘…… এবং ইব্রাহিম ও ইয়াকুব এ সম্বন্ধে তাঁদের পুত্রগণকে নির্দেশ দিয়েছিল- ‘হে পুত্রগণ! আল্লাহ্ তোমাদের জন্য এ দ্বীনকে (ধর্মকে)
মনোনিত করেছেন। অতএব, আতœসমর্পনকারী না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’
যারা একমাত্র আল্লাহ্তা’য়ালাকে ভরসা করে, তাদের এ দুনিয়ায় কোন সমস্যা, অসম্মান বা অভাব-অনটন নেই। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্’র প্রিয় রাসূল মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ্তা’য়ালা’র ওপর ভরসা রাখে, তার জন্য মহান আল্লাহ্তা’য়ালাই যথেষ্ট।’ (-ইবনে মাজাহ্)। মিশ্কাত শরীফের আর একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কোরআনকে আঁকড়ে ধরো, তাহলে কখনও বিপথগামী হবে না।’
মিশ্কাত শরীফ এর আর একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জ্ঞানের মাথা হলো মহান আল্লাহ্কে ভয় করা।’ আল্লাহ্’র প্রিয় নবী (সাঃ) আরো বলেছেন, ‘সত্য কথা বলো, যদিও তা তিক্ত।’
(-ইবনে হিব্বান)। আল্লাহ্’র প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) আরো বলেছেন, ‘সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে মহান আল্লাহ্’র কিতাব।’ (-সহীহ মুসরিম শরীফ)।

পরিশেষে বলতে চাই যে, সকল মুসলমান নর-নারীকে উপরোক্ত দ্বীনের উপর আমল করে জীবন-যাপন করলে সে কখনও পথভ্রষ্ঠ হবে না। স্বয়ং মহান রাব্বুল আল-আমিন তাঁর হেফাজত করবেন।