জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি নারীরা টোকিওতে গতসপ্তাহে প্রথম বারেরমতো চ্যারিটি বাজার আয়োজন করে তা থেকে বিক্রিজাত অর্থের পুরোটাই কুড়িগ্রামের বিপন্ন নারীদের হাতে তুলে দিয়েছে।

বাংলাদেশ উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন জাপান (বিডবিøউএজে, বোয়াজ) এর ব্যানারে টোকিওর কিতা সিটির উকিম ফুরেআইকানে গত শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনের এ আয়োজনে বিপুল দর্শনার্থীর সমাগত ঘটে। বিভিন্ন স্টল সাজিয়ে সেখানে নিজেদের হাতে তৈরি বাংলাদেশি পিঠা, মিষ্টান্ন ও হরেক রকম মুখরোচক খাবারদাবারসহ এবং গহনা, বুটিক এবং বইসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী তুলে ধরেন সমিতির সদস্যরা। দাতব্য বাজার আয়োজনের মহতী উদ্দেশ্য একটাই, বন্যাসহ নানাবিধ দুর্যোগে বিপন্ন বাংলাদেশের বিপন্ন নারীর পাশে দাঁড়ানো, তার দিকে আশ্বাসের হাত বাড়িয়ে দেয়া।

শুধুনারীদেরউদ্যোগেপ্রথমবারেরমতোএচ্যারিটিবাজারেরসাফল্যঅভ‚তপূর্বসাড়াতৈরিকরেছেইতোমধ্যে।জাপানেরগণমাধ্যমেওফলাওপ্রচারহয়েছেতার।অনলাইনভিত্তিকশপিংউদ্যোক্তারপাশাপাশি১৭টিস্টলএতেঅংশগ্রহণকরে।বাজারটিসন্ধ্যা৮টায়শেষহওয়ারকথাথাকলেওউৎসাহীক্রেতারআগ্রহেবহুআগেইশেষহয়েযায়স্টলেরসাজানোসামগ্রী।বিক্রিথেকেআয়েরপুরোঅর্থেরচেকতুলেদেয়াহয়সভানেত্রীরহাতে।বাংলাদেশেরকুড়িগ্রামেবন্যাকবলিতদুঃস্থনারীদেরপুনর্বাসনেব্যয়হচ্ছেএটাকা।

নারীসমিতিরপ্রধানউপদেষ্টাজাপানেবাংলাদেশেররাষ্ট্রদূতরাবাবফাতিমারপ্রতিনিধিদূতাবাসেরঅর্থনৈতিকমন্ত্রীড. সাহিদাআকতারছিলেনএরপ্রধানঅতিথি।আয়োজনেরসাফল্যেপ্রবাসীনারীদেরঅভিনন্দনজানিয়েতিনিবলেন, নারীরক্ষমতায়নহচ্ছে।তাদেরঅবদানেউন্নয়নেরমহাসড়কেএগিয়েযাচ্ছেবাংলাদেশ।নারীপারেনাএমনকোনোকাজনেই।বিদেশেরমাটিতেবাংলাদেশিনারীদেরএআয়োজনতারইঅনন্যনিদর্শন।

আয়োজনের শুরুতে অনুষ্ঠানে বোয়াজের কার্যকরী পর্ষদের নাম ঘোষণা হয়। এতে সমিতির সভানেত্রী হিসেবে জেসমিন সুলতানা কাকলি, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সুবর্ণ নন্দী রিমা, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে সালমা আক্তার লাকি এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে রোকেয়া পারভিন তানিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। এছাড়া সমিতির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এবং উপদেষ্টা হিসেবে সাহিদা আকতারের নাম ঘোষণা হয়। সদস্যরা অঙ্গীকার করেন, জাপানে বাংলাদেশের সুনাম বাড়াতে সচেষ্ট থাকবেন। দেশের দুঃস্থ নারীদের ভাগ্য উন্নয়নের কাজ করে যাবেন। সবশেষে আনন্দঘন পরিবেশে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় স্বরলিপি কালচারাল একাডেমির সদস্যরা।

প্রাণের দেশ ছেড়ে যাওয়া এসব নারীর কেউ দুবছর আবার কেউ দশ বছরের বেশি পেশাগত কিংবা নানা কারণে জাপানে বসবাস করছেন। কিন্তু তাদের বুকের মধ্যে সারাক্ষণ গান গাইতে থাকে ফেলে আসা সবুজ দেশ, মমতামাখানো নাড়ির টান। অনেক ভালোবাসার সেই দেশ, দেশটার সরল মনের মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় থেকেই এবার একজোট হয়েছে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশের নারীরাও।

এছাড়া দেশের শীতার্ত মানুষের হাতে গরম কাপড় তুলে দেয়ার লক্ষ্যে সমিতির পরবর্তী কর্মসূচি শুরু হচ্ছে শিগগিরই।