মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

(“বন্যার্তদের সাথে ঈদের আনন্দ শেয়ার করি, এক বেলা তাদের মাংস খাবার ব্যবস্থা করি”)

ঈদ মানে আনন্দন, ঈদ মানে খুশি। আর এবার সেই ঈদের আনন্দ ও কোরবানির মাংস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চরাঞ্চলের হাজার হাজার বানভাসি মানুষ।

পাহাড়ি ঢল, উজানের পানি আর প্রবল ভারী বর্ষণের কারণে লালমনিরহাট  জেলার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ট্রাজেডি হচ্ছে পানিবন্ধী আর তিস্তা নদীর ভাঙ্গন। তিস্তার ভাঙ্গনে ৬০ হাজার পরিবার এপর্যন্ত ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। নদীগর্ভে ২ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমি বিলীন হয়ে গেছে।

বিশেষ করে হাতীবান্ধা উপজেলার  সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গীমারি, সিন্দূর্ণা, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিন চতুর্থাংশ তিস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে।
এছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডার ও কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা এবং লালমনিরহাট সদরের রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়েছে।

বন্যায় অনেকের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়, পানির স্রোতে রাস্তাঘাট, পুকুরের মাছ ভেসে যায়। পানিতে তলিয়ে যায় আবাদি ফসল। পানি বন্ধী হয়ে থাকে কয়েকদিন। কর্মহীন হয়ে পড়ে সকলেই।

ফলে বন্যাকবলিত এলাকার প্রায় প্রতিটি পরিবারে নেমে আসে চরম অভাব অনাটন আর দুঃখকষ্ট। অনেকেই জীবীকা নির্বাহ করছে সরকার আধাসরকারী ত্রাণের উপর। এরপরেও এলো কোরবানির ঈদ।

সিঙ্গিমারীর ইউনিয়নের ভেস্বির মোড় এলাকার আব্দুল জব্বার জানান, “আমাগো ভাগ্যত ঈদ নাই। বন্যাত আমাগো ঘরবাড়ি ভাসিয়া গেইছে। ঘরে একমুঠ খাবারও নাই, এলাকাত কোন কাজও নাই, বাড়িঘর ঠিক করমো আর কি খামো তার কোন উপায়ও নাই, আর কোরবানির পশু বা গোস্ত (মাংস) কিনব ক্যামনে!
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “বাবারে ঈদের দিনত বালবাচ্চা নিয়ে গোস্ত দিয়া পেটপুরে ভাত খামো এই সাধ্য আমাগো নাই”।

ত্রাণের মতো যদি কেউ বানভাসি অসহায় মানুষের জন্য মাংসের ব্যবস্থা করে তাহলে হয়তো আমাদের ভাগ্যে মাংস জুটতে পারে বলে জানালেন উত্তর সিন্দুর্নার মনির মিয়া, ডাউয়াবারীর জহিরণ বেওয়া, সানিয়াজানের আব্দুল, পাটিকাপাড়ার মনছের আলীসহ অনেকেই।

সিন্দুর্না চড়ের আইয়ুব আলী ঘাটিয়াল জানান, বন্যায় চরাঞ্চলের ১,২,৩ ওয়ার্ডের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে অধিকাংশ লোকেই ত্রাণের উপর নির্ভর করে চলছে। সে ত্রাণও পর্যাপ্ত নয়। কোরবানির মাংস তো দুরের কথা ঈদের দিন খাবে তারও কোন উপায় নাই।

বন্যায় সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গড্ডিমারী ইউনিয়নের তালেব মোড় এলাকার আবু তালেব বলেন, ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ। মাংস কেনা তো দুরের কথা, ঈদেরদিন তারা খাবে কি তারও কোন উপায় নাই।
তিনি আরও বলেন, এবারে বন্যায় আমাদের ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পানির স্রোতে ৬ নং ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রামটি সম্পুর্ন লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। শতাধিক বাড়িঘর, রাস্তাঘাট পানির স্রোতে ভেঙ্গে যায়। আবাদি ফসল তলিয়ে যায় এবং পুকুরের মাছ ভেসে যায় বন্যার পানিতে। কর্ম আর খাদ্যাভাবে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। সরকারী আর আধাসরকারী ত্রাণ সামগ্রীই হচ্ছে তাদের জীবন বাঁচার একমাত্র পথ।

তবে বানভাসি অধিকাংশ অসহায় মানুষ চেয়ে আছেন হয়তো কেউ না হয় কেউ তাদেরকে ঈদের মাংসের চাহিদা পুরন করবেন।

এবিষয়ে কথা হয়, গড্ডিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ডাঃ আতিয়ার রহমান, সিঙ্গীমারীর মানোয়ার হোসেন দুলু, সিন্দূর্ণার নুরুল আমিন, ডাউয়াবাড়ি কায়েদ চেয়ারম্যানের সাথে, তারা সকলে স্বীকার করেন, এবারের ঈদের আনন্দ ও কোরবানির মাংস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বানভাসি অসহায় মানুষেরা।

আসুন আমরা সবাই “বন্যার্তদের সাথে ঈদের আনন্দ শেয়ার করি, এক বেলা তাদের মাংস খাবার ব্যবস্থা করি” এই আহবান করেন হাতীবান্ধা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিক বৃন্দ।