ঢাকা: ২৮ আগষ্ট, সোমবার ২০১৭:

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধের আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আজ ২৮ আগষ্ট সোমবার বিকেলে সংগঠনের ঈদযাত্রায় সেচ্চাসেবকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান। সারাদেশের সড়ক রেল ও নৌ-পথের যাত্রীসেবা পরিস্থিতি নিয়ে সেচ্চাসেবকরা বিস্তারিত তুলে ধরেন। এতে ভাংগা ছেড়া সড়ক-মহাসড়ক, দীর্ঘ যানজট, নৌ-পথে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, রেল পথের টিকিট কালোবাজারী, সড়ক ও নৌ পথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়াও ঈদযাত্রায় অনান্য বারের মতো এবারো সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সংগঠনের চেয়ারম্যান শরীফ রফিকউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত এই কর্মশালায় আলোচনা করেন, সড়ক দূর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সমন্ময়ক মো. সামসুদ্দীন চৌধূরী, লায়ন মাহমুদুল হাসান রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম, সেচ্চাসেবক উপ-কমিটির আহব্বায়ক আজহারুল আলম জিকু, জিয়াউল হক চৌধুরী, মিলাদ উদ্দিন মুন্না, আজিজুল হক চৌধুরী প্রমূখ।

সভায় সেচ্চাসেবকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর ঈদ আনন্দযাত্রায় দেশের যাত্রী সাধারণ অবর্ণনীয় দূর্ভোগ, ভোগান্তি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্যের শিকার হয়। বিগত ঈদুল ফিতরে অনেকটা লম্বা ছুটি থাকায় এবং রাস্তাঘাটের অবস্থা অনেকটা উন্নত হওয়ায় কিছুটা স্বস্থিতে যাতায়াতের সুযোগ পেলেও এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি ও নৈরাজ্য বেড়েছে। ইতিমধ্যে দেশের সবকটি সড়ক-মহাসড়কে যানজটে নাকাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মূলতঃ দেশে ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায়, ব্যক্তিগত পরিবহন ও ছোট পরিবহণ বিশেষ করে রিক্সা, অটোরিক্সা, ব্যাটারী চালিত রিক্সা, নছিমন-করিমন, হিউম্যান হলার, পিকআপভ্যানের সংখ্যা দ্রুত গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক-মহাসড়কে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে পশুবাহী যানবাহন থামিয়ে পুলিশের চেকিং এর নামে চাঁদাবাজীসহ নানা কারনে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংগঠনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধূরী এক সমীক্ষা তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রায় ২১ হাজার কিলোমিটার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ৫০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ, অন্যদিকে নৌ-পথে ভরা বর্ষার কারনে বয়া-বাতি-মার্কিং চিহ্ন অনেক পথে মুছে গেছে, এখানে চর ডুবোচর একাকার হয়ে গেছে, নৌ-পথে অতিরিক্ত যাত্রী বহন কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা জরুরী । অন্য দিকে রেল পথে প্রায় ১০০ কিলোমিটার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্থ, ৯৮টি রেল সেতু চলতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই সব পথগুলো ভোগান্তির নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আলোচনায় উঠে আসে।