ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০১৭। বাংলাদেশে ই-কমার্স বা ইন্টারনেট-ভিত্তিক বাণিজ্য চালু করার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীন বা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন অধিকারভিত্তিক নাগরিক সমাজের। আগামী ২০-১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন উপলক্ষে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত “ই-কমার্স ও অভ্যন্তরীন সুরক্ষা: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশের অবস্থান সরকারকে প্রকাশের দাবি করেন।
ইক্যুইটিবিডি’র সৈয়দ আমিনুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বরকত উল্লাহ মারুফ। এতে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই-এর পরিচালক আবু নাসের, ডিসিসিআই-এর পরিচালক ফজলুল করিম, বাংলাদেশ ইকোনমিক এসোসিয়েশনের সদস্য আসজাদুল কিবরিয়া, এস এ টিভির প্রধান প্রতিবেদক সালাউদ্দিন বাবলু, জাতীয় শ্রমিক জোটের ড. মেজবাহ উদ্দিন, লেবার মুভমেন্ট ফোরামের আবুল হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের বদরুল আলম।
বরকত উল্লাহ মারুফ উল্লেখ করেন, ই কমার্স বিষয়ে আলোচনার সুযোগ ছিল ১৯৯৮ সালের একটি বিধানে, কিন্তু ধনী দেশগুলো, বিশেষ করে গুগল, এ্যাপল, ফেসবুক, এ্যামাজন, মাইক্রোসফট-এর মতো দৈত্যাকার কোপম্পানিগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়িনর চায় আলোচনার সুযোগ বন্ধ করে দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও আইনী বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠা করতে। তারা চায় এক্ষেত্রে কর, শুল্কসহ সরকারি নিয়ন্ত্রণ না থাকুক। আফ্রিকা এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলো এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে কারণ এই ধরনের আয়োজন বিশ্ব জুড়ে ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষুণœ করবে এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়বে। বিভিন্ন দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক অসমতা বাড়বে, যা এসডিজি’র ১০ নাম্বার লক্ষ্যের পরিপন্থি। তাই বাংলাদেশ সরকারকে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহাযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
আসজাদুল কিবরিয়া বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার উচিৎ নয় দোহা রাউন্ডের আলোচনা, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ (ঞৎধফব ধহফ ওহাবংঃসবহঃ), রুলস অব অরিজিন এবং কার্যকর বাণিজ্য সুবিধা বিষয়ক আলোচনা থেকে সরে আসা। কারণ এই বিষয়গুলো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য খুবই দরকারি। ই-কমার্স বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আসন্ন সম্মেলনে বাংলাদেশকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।
ড. মেসবাহ উত্দিন আহমেদবলেন, কারিগরি নানা সংকটের মধ্য দিয়েই ইকমার্স এগিয়ে চলছে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিযোগিতা অভাব এবং বাজার ব্যর্থতার সুযোগে ই কমার্স দ্রুতগতিতে বেড়ে উঠছে। কিন্তু বাজার ব্যর্থতা নিরসন বা ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ই কমার্স বিষয়ে কার্যকর কোনও নীতিমালা নেই।
আবু নাসের বলেন, ক্রমবর্ধমান আর্থ-সামাজিক অসমতা বাংলাদেশের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়, ই কমার্স নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আয়োজন এই অসমতাকে দেশে এবং বৈশি^কভাবে আরও বাড়াবে। আমি মনে করি সংস্থাটির আসন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় এই বিষয়ে একটি শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা উচিৎ।
মো. ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশের জন্য ইকমার্স একটি অপরিপক্ক উদ্যোগ, কারণ সরকার এই অন্যায্য বাণিজ্য প্রতিযোগিতা, ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণ, কর ফাকি রোধ এর কোন কিছুই আসলে করতে পারবে না। আর তাই একটি যথাযধ নীতিমালা প্রণয়ন না করে তথ্য নিরাপত্তা পাকাপোক্ত না করে ইকমার্স-এর পক্ষে দাঁড়ানো সরকারের উচিৎ হবে না।