রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, মানবতাবিরোধী বিভিন্ন জঘন্য অপরাধ এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমার থেকে নিশ্চিহ্ন করার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচারের জন্য দেশটির সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠিন শাস্তির দাবিতে মামলা হয়েছে। গত সোমবার নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস-এ মামলাটি দায়ের করেছেন নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এ কাইয়ূম চৌধুরী।
আদালত এ মামলাটি গ্রহণের সত্যতা এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছে।

একই সঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর অবিলম্বে গণহত্যা, ধর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে তাদেরকে মিয়ানমার থেকে বিতাড়ন, নারী ও শিশুসহ সকল রোহিঙ্গার প্রতি অবিচার ও নাগরিকদের প্রাপ্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিতকরণ ইত্যাদি জঘন্য অপরাধ ও মানবতা বিরোধী কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ ও আদেশ প্রদানের জন্য আবেদন জানানো হয়।

আদালতসমূহ যেন আদেশ প্রদান করেন-যাতে মিয়ানমার সরকার অবিলম্বে রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব প্রদানপূর্বক মিয়ানমারে তাদের বাড়িঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যথাযথভাবে পুনর্বাসন করে, তাদের প্রতি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করে এবং তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য চিকিৎসা, ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ দেশের অন্যান্য নাগরিকদের মত সকল গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকার প্রদান করে-এমন দাবি জানানো হয়েছে।

মিয়ানমার সরকার কর্তৃক গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটনের কারণে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতির ভয়াবহতায় বাংলাদেশ যে আর্থিক ক্ষতি, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে- তাই বাংলাদেশকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে, যথাযথ ডিক্রি প্রদান করার জন্যও আন্তর্জাতিক আদালতসমূহে দাবি জানানো হয়।