ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রি.
পবিত্র আশুরা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদে শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল জনাব এ কে এম শহীদুল হক বিপিএম, পিপিএম এর সভাপতিত্বে আজ সোমবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র আশুরা এবং দুর্গাপূজার আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আইজিপি যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে নিরাপদে আশুরা এবং দুর্গাপূজা উদ্যাপনের লক্ষ্যে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আশুরা এবং দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে জন-সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (ইন্টেলিজেন্স এন্ড স্পেশাল এ্যাফেয়ার্স) মোঃ মনিরুজ্জামান আশুরা এবং দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে গৃহীত সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সভায় তুলে ধরেন। সভায় আসন্ন আশুরা এবং দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় পবিত্র আশুরায় তাজিয়া মিছিলের সময় এবং রুট পরিবর্তন না করা, স্থানীয় পুলিশকে অবহিত না করে তাক্ষণিকভাবে কোন মিছিল বের না করা, মিছিলের কোন বিকল্প রুট ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এছাড়া, মিছিলের রুটসমূহে সিসিটিভি স্থাপন, মিছিলে হকার এবং সন্দেহভাজন লোকদের প্রবেশ করতে না দেওয়া, ব্যাগ, পোটলা এবং তল্পিসহ মিছিলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত পূজা উদ্যাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ দুর্গাপূজাকে ঘিরে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ভেতর দিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। এ বছর সারাদেশে প্রায় ঊনত্রিশ হাজারের বেশী মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি মন্ডপে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, মন্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা করা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা, অধিক জনসমাগমপূর্ণ মন্ডপে আর্চওয়ে স্থাপন এবং হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশির ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় এসবির অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া, এপিবিএনের অতিরিক্ত আইজিপি সিদ্দিকুর রহমান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি মইনুর রহমান চৌধুরী, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আবুল কাশেম, শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ নওশের আলী, সকল রেঞ্জ ডিআইজি ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারগণসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিবি কা-রাওজার আশেকান কমিটির সভাপতি হাজী তোফায়েল আহমেদ, ইমাম বাড়া হোসনী দালানের সুপারিনটেনডেন্ট এস. এম. ফিরোজ হোসেন, পল্টন ইমাম বাড়ার ফাজলে রেজা, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল ও ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার রায়, এনএসআই, ডিজিএফআই, আনসার ও ভিডিপি, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।