আফগানিস্তানে অতিরিক্ত আরো সাড়ে তিন হাজার সেনা পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র। এই সেনাসদস্যরা আফগান সেনাবাহিনীর সহায়ক হিসেবে কাজ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশল নিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের (মেরিন) চেয়ারম্যান জেনারেল জোসেফ ডনফোর্ড। এরপর আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা পাঠানোর খবর প্রকাশ হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স এই খবর প্রকাশ করে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বলছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না। সম্প্রতি পেন্টাগন জানায়, দেশটিতে এখনো ১১ হাজারের মতো মার্কিন সেনা আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান নীতি নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের ‘দ্রুত ইতি টানার’ প্রতিশ্রুতি দেন। তালেবানের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া আফগানিস্তানে আরও চার হাজার সেনা পাঠানোর এখতিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যাটিসকে আগেই দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তবে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা মার্কিন সেনাসদস্য বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক মনে করছেন না। তারা মনে করেন, মার্কিন সেনারা আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলা বৃদ্ধিতে তালেবানের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না।
২০০১ সালে আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তালেবান ও অন্যান্য ইসলামি চরমপন্থি সংগঠনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৭ হাজারের বেশি সেনাসদস্য। রয়টার্স।