জাতীয় শোক দিবস ২০১৭ এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২-তম শাহাদৎ বার্ষিকী বাংলাদেশ দূতাবাস, আদ্দিস আবাবা-তে যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশে স্মরণ ও পালন করা হয়। দিবসটি স্মরণে বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত কর্তৃক জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণ, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ, দোয়া ও প্রার্থনা, আলোচনা সভা, শোক দিবসের ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কবিতা ও সঙ্গীত এবং প্রামান্য চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে দিবসটিকে স্মরণ করা হয়।

ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবাতে অবস্থিত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত পূর্বাহ্নে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন এবং অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচীর সূচনা করেন। অপরাহ্নে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের মূল অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ইথিওপিয়ান ও বিদেশী অতিথিবৃন্দ, ইথিওপিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকবৃন্দ এবং দূতাবাসের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে সকল শহীদের রূহের মাগফেরাত এবং দেশের অব্যাহত সুখ-সমৃদ্ধিকল্পে দোয়া কামনা করা হয়। এরপর ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর কালোরাত্রিতে শাহাদত বরণকারী সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনানো হয়।

অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা পর্বে ইথিওপিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আগত বিদেশী অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। তারা বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল জাগরণে বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। আগত বাংলাদেশিবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের “সোনার বাংলা” রূপায়ণে তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার করেন। পরবর্তী পর্বে উৎসাহী অংশগ্রহণকারীগণ শোকদিবসের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে কবিতা ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন। আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র ”আমাদের বঙ্গবন্ধু ” প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মান্যবর রাষ্ট্রদূত সমাপণী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন। “ডিজিটাল বাংলাদেশ” বির্নিমাণে ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশের উন্নয়ণে অবদান অব্যাহত রাখার জন্য তিনি প্রবাসীদের সবিনয় অনুরোধ জানান। আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং নৈশভোজ পরিবেশনের মাধ্যমে শোক সভার সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।