বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র এক প্রতিনিধিদল আজ ৩১ অগাস্ট ২০১৭, বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩.৩০ টায় “আগারগাঁও প্যারেড গ্রাউন্ড সংলগ্ন ফলবীথি জার্মপ্লাজম সেন্টার নামের মাতৃবাগান’’ পরিদর্শণ করেন। বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবি ও বাপা’র সহসভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে আরো উপস্থিত ছিলেন বাপা’র যুগ্ম-সম্পাদক জনাব মিহির বিশ্বাস, নিসর্গবাদী সংগঠন “তরুপল্লব” এর সাধারণ সম্পাদক জনাব মোকারম হোসেন।

প্রতিনিধিদল লক্ষ্য করেন যে, প্রায় ২৭ বছরের পুরনো এই বাগানটিতে দেশি বিদেশি ফলগাছের এক বিস্ময়কর জার্মপ্লাজম ভান্ডার গড়ে উঠেছে। ৭৩৯ টি ফলজবৃক্ষের এই গবেষনা উদ্যানটিতে তারা প্রত্যক্ষ করেন এই মাতৃবাগানে মোট ৬৭ প্রকার ফলের ২৬৫ জাতের ৭শতাধিক গাছ আছে। এর মধ্যে বিভিন্ন জাতের আম, লিচু, পেয়ারা, জলপাই, কামরাঙ্গা, জামরুল, বাতাবীলেবু, লেবু , নারিকেল, বেল, করমচা, কুল এবং তেঁতুলসহ স্টারআপেল, নাশপাতি, সাতকড়া, মাল্টা, রাম্বুটান, এ্যাভোকাডো, জাবাটিকাবা এবং কাজুবাদামও রয়েছে।

পরিদর্শণ শেষে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ঢাকা মহানগরীর মধ্যে অবস্থিত এমন একটি মনোরম ফলজবৃক্ষের বাগানকে বিনষ্ট করার যে সিদ্ধান্ত, তা খুবই দুঃখজনক। এটি অবিবেচনা প্রসূত ও নিষ্ঠুর একটি পদক্ষেপ। এই মাতৃ-বাগানটি জাতীয় অর্থনীতি, গবেষণা, খাদ্য-পুষ্টি ও নগরীর পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তাই বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক দীর্ঘ ২৭ বছরে লক্ষ লক্ষ টাকায় গড়ে তোলা এই গুরুত্বপূর্ণ এই বাগানটির যাতে কোন প্রকার ক্ষতি না হয়, তিনি তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

প্রতিনিধিদল বলেন, মেট্রোরেল প্রকল্পটির সাইট অফিস করার জন্য পাশে আরো অনেক ফাঁকা জায়গা রয়েছে, অতএব এমন মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ গাছের বাগান ধ্বংস করে করে জায়গা বের করার সিদ্ধান্ত কোন ভাবেই কোন দায়িত্বশীল ও সচেতন মহলের নিকট গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই নগরের প্রাকৃতিক ভারসাম্যতা এবং খাদ্য ও পুষ্টির প্রয়োজনে ও সর্বোপরি জাতীয় স্বার্থেই একটি বিকল্প স্থানে মেট্রোরেলকে তাদের নির্মাণ অফিস স্থাপনের আহবান জানান প্রতিনিধিদল।

উল্লেখ্য যে, আগারগাঁওস্থ ফলবীথি জার্মপ্লাজম সেন্টার নামের বাগানটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে ১৯৯০ সালের দিকে যাত্রা শুরু করে। তখন রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে একটি নির্বাহী আদেশে আগারগাঁও সংলগ্ন জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারের পশ্চিম-দক্ষিণ অংশে একটি কেন্দ্রীয় ও প্রতিনিধিত্বমূলক বাগান স্থাপনের জন্য ৫ একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তখন থেকেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ এই বাগানটিকে গড়ে তোলে। কিন্তু গত ৩১ জুলাই বিমান বাহিনী সদর দপ্তর প্রেরিত এক চিঠিতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য যে জায়গাটি চিহ্নিত করেছে তা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ব্যবহার্য ৫ একর জমিরই অংশ।

বাপা পরিদর্শকদল লক্ষ্য করেছেন ও অবগত হয়েছেন যে, অযৌক্তিভাবে এই বাগান বিনষ্টের এহেন প্রয়াস সম্ভাবনাময় ও মূল্যবান এ বাগানের অস্তিত্ব ধ্বংস নিশ্চিত করে করে তুলেছে; এর ফলে বাগান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গবেষক, ছাত্র-শিক্ষক, পরিবেশবাদী, প্রকৃতিপ্রেমী সকল মানুষ তাদের চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।

পরিদর্শকরা লক্ষ্য করেছেন যে, এই ফলবীথি মাতৃবাগানটির কর্মকা- নির্বিঘœ করার স্বার্থে ২০০০ সালেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। তাতে বাগানটি সংরক্ষণপূর্বক নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এমন একটি স্পষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও ফলবীথি মাতৃবাগানটি বিনষ্ট করার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, তা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহির নির্দেশ অমান্যের শামিল। প্রতিনিধিদল এ বাগান রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় ও দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।