মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিহাটের অাদাতমারী উপজেলায় রোপা অামন ক্ষেতে (লীফ লোরাল) পাতা মোড়া পোকাড় অাক্রমন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অামন বিপর্যয়ের আশংকায় কৃষকের মনে ব্যাপক হতাশার সৃষ্টি হয়েছে ।

এদিগে রোপা অামনে পোকার অাক্রমন দমনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি অফিস কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহন করে নাই বলে একাধিক কৃষক সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছিুক অাদিতমারী উপজেলার দক্ষিন বত্রিশ হাজারী গ্রামের ভুক্ত ভোগী ৭/৮ জন কৃষকের সংগে অালোচনা হলে তারা বলেন, পোকার অাক্রমন প্রচুর তবে এব্যপারে কৃষি অফিস থেকে এ পর্যন্ত কোন কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কাজে দায়িত্ব রত কেউ অাসেনি। অামরা বাজারে কীটনাশক ব্যাসায়ীদেরকে ধান ক্ষেতের রোগের লক্ষণ সম্পর্কে বলে ঔষধ চাইলে তারা তাদের মত করে কীটনাশক দেয়, সেটা ভাল না মন্দ বোঝার উপায় নেই। ফসল রক্ষার্থে ঔষধ কিনে জমিতে প্রযোগ করি, কিন্তুু এতে কাজ হয় না। বরং সময় নষ্ট অার টাকা অপচয় হয়, কাজের কাজ হয়না ।

অামরা সাধারণ কৃষক ধান ক্ষেতে কি পোকার অাক্রমন হয়েছে কি করে বুঝবো, শুনেছি ধান ক্ষেতে পোকার অাক্রমন হলে পরামর্শ প্রদানের জন্য কৃষি অফিস থেকে লোক এসে পরামর্শ প্রদান করেন, কিন্তুু অামদের এখানে তা করে না । অার সঠিক রোগের জন্য সঠিক  কীটনাশক অামারা কোথায় পাবো অশ্রু স্বজল নয়নে কথা গুলো বলেন তারা ।

এদিগে ব্যাঙের ছাতার মত কীটনাশক  বিক্রেতা বাজারে বিদ্যমান। তারা নিম্ন মানের কীটনাশক বিক্রয় করছে, দেখার কেউ নেই, এ যেন মগের মুল্লুক। ফলে কৃষকগন সঠিক কীটনাশক হতে বঞ্চিত হচ্ছে। সৃষ্ট ঘটনায় একাধীক কৃষক সংশ্লিষ্ট অফিসে কর্ম কর্তাদের ফোনে ও সরাসরি মৌখিক ভাবে নকল কীটনাশক ও লাইসেন্স বিহীন ব্যবসায়িদের ব্যপারে অবগত করলে ও কোন ফলপ্রসূ হয় নাই।

অভিযোগ উঠেছে কতিপয় অসাধহ কর্মকর্তার মদদে চলছে লাইসেন্স বিহীন জমজমাট নকল কীটনাশক ব্যবসা, ফলে একদিগে কৃষকের যেমন অপচয় হচ্ছে টাকা অন্য দিগে সঠিক সময় সঠিক রোগ বালাই নাশক ধান ক্ষেতে দিতে না পারায় ফলন বিপর্যয় ঘটছে। যার ফলে কৃষকদের চরম খেসারত দিতে হচ্ছে।

কৃষি অফিসের সূত্র মতে এবার রোপা অামনের লক্ষ মাত্র ছিল ১২ হাজার তিন শত পয়ত্রিশ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ১২,৯৮০ হেক্টর, পোকার অাক্রমন ০ পয়েন্ট ২৫ হেক্টর বলে তারা বলেন।

তবে অাদিতমারী উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের কৃষকের সঙ্গে অালোচন করে জানা গেছে, এবার পোকার অাক্রমনে অর্ধেক ফসল নষ্ট হবে বলে তারা মনে করেন।
তবে সঠিক সময়ে বালাই নাশক ব্যবহার হলে ও সঠিক সময় পরামর্শ প্রদান করলে এটা ঠেকানো সম্ভব হত।

এ ব্যাপারে দিতমারী উপজেলার কৃষি অফিসার বিপ্লব কুমার মোহন্তের সঙ্গে অালোচনা হলে তিনি বলেন, পোকার অাক্রমন পরিলক্ষিত, তবে ততটা নয়। অামরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করেছি এবং মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি মুলক কর্ম কান্ড ও কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছি ।। নিম্ন মানের কিটনাশক এর ব্যপারে তিনি বলেন, শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করে সেই সকল বিক্রতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।।