মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট  প্রতিনিধি:

নজরুল ইসলাম নজুকে অসহায় জেনে অস্থায়ীভাবে বাড়ি করার জায়গা দেওয়ায় উল্টো আজকে মহাবিপদে পড়েছে ইদ্রিস আলীর পরিবার। বাড়ি করে কয়েকমাস থাকার কথা বললেও ৩০ বছরেও ছাড়ছেনা ঐ জমি। অথচ অন্যত্র জমি কিনে বাড়ি করে দিয়েছে ছেলেদের। মাদক ব্যবসা করায় ক্ষমতার যেন শেষ নেই নজুর। বাড়ি সরিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বললে উল্টো ইদ্রিস আলীর কাছে ২ লক্ষ টাকার দাবি করছেন নজু। আর টাকা না দেওয়ায় কেটে ফেলা হচ্ছে জমির গাছপালা, বাধা দিতে গেলে করা হচ্ছে মারামারি, হাঙ্গামা, ভাংচুর ও মামলা। এলাকায় বিচার ও থানায় মামলা করেও ইদ্রিস আলী পাচ্ছেনা জমির মালিকানা ফিরে। এযেন মগেরমুল্লুককেও হার মানাচ্ছে।

আর এ ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পুর্ব বেজগ্রাম এলাকার ইদ্রিস আলীর সাথে। আর ঘটনাটি ঘটাচ্ছে তার ভাগিনা নজরুল ইসলাম (নজু)। আর নজুর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে হাতীবান্ধা হাসপাতালে চিকৎসাধীন রয়েছে ইদ্রিস আলীর ছেলের বউ সাহিদা বেগম (৩৫)। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলেও তা এখনও নথিভূক্ত করেনি পুলিশ।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলীর পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, নজুর কোন জায়গাজমি না থাকায় ২০-২৫ বছর পুর্বে তার মামা ইদ্রিস আলী অস্থায়ীভাবে বাড়ি করার জন্য কিছু জমি দেন। এভাবে ১০-১৫ বছর ভালো ভাবে চলার পরে নজু বিভিন্ন অপকর্ম ও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। মানসম্মানের ভয়ে ইদ্রিস আলী নজুকে অন্যত্র জমি নিয়ে বাড়ি করার জন্য চাপ দেন। নজু অন্যত্র ৭ শতাংশ জমি কিনে তার দু’ছেলে হাসান আলী ও মোতাহার হোসেনকে বাড়ি করে দেন। মামার জমিতে বাড়ি থাকায় নজু ঐ জমি ছাড়তে নারাজ। জমি ছাড়ার জন্য নজুকে বারবার চাপ দিলে সে বাড়ি সরিয়ে নেবার জন্য ইদ্রিস আলীর নিকট ২ লক্ষ টাকা দাবি করেন। উপায়ান্তর না দেখে ১ বছর পুর্বে ইদ্রিস আলী তার বড় ছেলে জাকের আলীকে (বকুল) বাড়ি করার জন্য ঐ জমি লিখে দেয়।

ইতিপূর্বে নজরুল ইসলাম নজু মাদক মামলায় দু বছর সাজা ভোগ করেন। মাদক ব্যবসা করার সুবিধার্থে সে একেক সময়, একেক যায়গায় একেকজন মহিলাকে বিয়ে করেন। তার স্ত্রীর সংখ্যা ৪জন বলে এলাকাবাসী জানান। নজুর বর্তমানে ৪ নং স্ত্রী ছিতারা (৩০)কে সে রংপুর পীরগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে গিয়ে বিয়ে করেন। ছিতারা বেগম একজন দুষ্কৃতি প্রতিকৃত মহিলা। ইতিপূর্বে তুচ্ছ ঘটনায় সে তার বড় সতীনের ছেলে হাসেন আলীর (৩৫) স্ত্রী জামিলা বেগমকে (৩০) ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গ্রুতর জখম করেন। ঐ ঘটনা জামিলা বেগম ছিতারা বেগমের নামে থানায় অভিযোগ করলে এলাকাবাসীর হাতে-পা ধরে ঐ যাত্রায় বেচে যায় ছিতারা। বারবার বলার পরেও নজু অন্যত্র বাড়ি না সরার কারনে এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দিয়ে চাপ দেন ইদ্রিস আলী। ইদ্রিস আলীর নিকট ২ লক্ষ টাকা নেওয়া ছাড়া বাড়ি না সরার হুমকি দেন নজু ।

ঘটনারদিন ২২ ডিসেম্বর নতুন ঘর তোলার জন্য নজরুল ইসলাম নজু ঐ জমিতে লাগানো বকুলের আম, সুপারি, মেহগনির গাছ কেটে ফেলে। খবর পেয়ে বকুল ও তার স্ত্রী সাহিদা বেগম তাতে বাধা দেন। এতে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয় নজু ও তার স্ত্রী ছিতারা বেগম ও আজিজুল ইসলাম। গাছ কাটা নিয়ে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বকুলের স্ত্রীর ডান হাতে ও কপালে ধারালো ছোড়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখন করেন নজু, তার স্ত্রী ছিতারা বেগম ও ভাই আজিজুল ইসলাম। এছাড়াও তারা বকুলকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
খবর পেয়ে বকুলের পরিবার রক্তাক্ত অবস্থায় তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করালে মামলার ভয়ে নজু তার বাড়িঘর ভাঙ্গার নাটক করেন এবং মেডিকেলে গিয়ে ভর্তি হন। এবিষয়ে উভয় পক্ষই থানায় আলাদাভাবে লিখিত অভিযোগ করেন।

ইদ্রিস আলীর সাথে কথা হলে তিনি এবিষয়ে বলেন, অসহায় জেনে আমি নজুকে অস্থায়ীভাবে বাড়ি করার জন্য ঐ জমি দিয়েছিলাম কিন্তু তার উপকার করে বারবার যে আমাকে মামলায় পড়তে হবে, রক্ত ঝড়াতে হবে এবং টাকা জড়িমানা দিতে হবে তা কোনদিনই ভাবি নাই। আমি এর বিচার চাই।

এবিষয়ে নজরুল ইসলাম নজু বলেন, আমি ঐ জমি ক্রয় করার জন্য ইদ্রিস আলীকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। তারা আমার বাড়ি ভাঙচুর করেছে। ক্ষতিপুরন ২ লক্ষ টাকা না পেলে আমি বাড়ি শরাব না।

টংভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, ঐ ঘটনায় উভয় পক্ষে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি বসে মিমাংসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম হাসান সরদার জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে তবে ঐ ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে মিমাংসা করতে চেয়েছে তাই মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি।