অবশেষে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়া জনপ্রিয় ইসলাম প্রচারক ও তুখোড় বক্তা ডা. জাকির নায়েককে স্থায়ী নাগরিকত্ব প্রদান করে বরণ করে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার কথিত অভিযোগ এনে ভারত সরকার জাকির নায়েকের ইসলাম প্রচার এবং তার প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের হয়রানির প্রেক্ষাপটে মালয়শিয়া সরকার তাকে বরণ করে নেয়ার এই সিদ্ধান্ত নিল।

গত মাসে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ার একটি মসজিদে জনপ্রিয় এই বক্তাকে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। ওই সময় মুসল্লিরা তাকে কাছে পেয়ে খুশিতে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাঁর সাথে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ওই মসজিদে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও প্রায়ই নামাজ পড়েন।

৫২ বছর বয়সী জাকির নায়েক ভারতে বহু বছর ধরে আন্তঃধর্ম সংলাপকে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন।কিন্তু মৌলবাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় উগ্রহিন্দুরা তার প্রতি উঠে পড়ে লাগে।এছাড়া সমকামীতার বিরোধিতা করায় পশ্চিমা দেশগুলোও তাঁর সাথে বৈরীতা শুরু করে।

পিস টিভি  নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও জাকির নায়েক তার বক্তব্য ও মতামত প্রচার করতেন।

গত বছর ঢাকায় হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালানো সন্ত্রাসীরা জাকির নায়েকের বক্তব্যে অণুপ্রাণিত হয়ে থাকতে পারেন- এমন খবর প্রকাশের পর পিস টিভি চ্যানেল বন্ধ করে বাংলাদেশ। যদিও হামলার দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস।

তবে জাকির নায়েককে আশ্রয় দেয়ার মালেয়শিয়ার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ভাল চোখে দেখছে না।

সিঙ্গাপুরের ‘রাজারত্মম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাডিজ’ এর বিশ্লেষক রাশাদ আলি বলেছেন, “মালয়েশিয়া সরকার জাকির নায়েককে ঠাঁই দিয়েছে কারণ যৌক্তিকভাবেই মালয়দের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে আছেন তিনি। এ অবস্থায় সরকার তাকে দেশ থেকে বের করে দিলে তা জনগণের চোখে ধর্মীয় বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”